|

ট্রেভর ম্যাকমাহোন

৮ নভেম্বর, ১৯২৯ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে অগ্রসর হলেও তাঁর মাঝে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার প্রবণতা ছিল না। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে, সর্বদাই দলে আসা-যাবার পালায় অবস্থান করতেন। শুরুতে তিনি নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ফ্রাঙ্ক মুনি’র স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক মুনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করলে তিনি নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পান। ব্যাট হাতে নিয়ে বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর মাঝে তেমন উচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা যায়নি। তাসত্ত্বেও, নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৯৫৫ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে হ্যারি কেভের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান ও ভারত সফরে যান। ১৩ অক্টোবর, ১৯৫৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক অ্যালাব্যাস্টার ও জিন হ্যারিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। উভয় ইনিংসেই ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। এ সফরে আট টেস্টের চারটিতে তিনি ও এরিক পেট্রি বাদ-বাকী টেস্টগুলোয় অংশ নিয়েছিলেন।

এরপর, ঐ মৌসুমের শেষদিকে প্রথমবারের মতো নিজ দেশে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ডেনিস অ্যাটকিনসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ০ ও ২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাভূত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। রান সংগ্রহে ব্যর্থতার কারণে স্যামি গুইলেনকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ওয়েলিংটনের পক্ষে খেলতে থাকেন। তন্মধ্যে, ১৯৬০-৬১ মৌসুমে সর্বোচ্চসংখ্যক ডিসমিসাল ঘটানোর রেকর্ডের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। ২২ ক্যাচ ও ১ স্ট্যাম্পিং করেছিলেন তিনি। আর্টি ডিকের অন্তর্ভুক্তিতে তাঁর বিদেয় ঘণ্টা বেজে উঠে। এরফলে, ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

১২ মার্চ, ২০২৬ তারিখে ওয়েলিংটনে ৯৬ বছর ১২৪ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট