|

মরিস সাইভার্স

১৩ এপ্রিল, ১৯১২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার পোলেট রিভার এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৩০ সালে ১৭ বছর বয়সে কোল্টসের পক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূচনা ঘটান। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও ভিক্টোরিয়া বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিতেন। দলটির পক্ষে বেশ কয়েকটি কার্যকর অর্ধ-শতক হাঁকান। বোলিংয়ে সফলতা পেলেও বেশ ব্যয়বহুল ছিল।

১৯৩৬ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে নিজ দেশে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জ্যাক ব্যাডকক, ফ্রাঙ্ক ওয়ার্ডরে রবিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৩২২ রানের ব্যবধানে বিশাল পরাজয়ের কবলে পড়ে ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ৮ ও ৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে গাবি অ্যালেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪২ ও ৩/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।

একই সফরের ১ জানুয়ারি, ১৯৩৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৫/২১ লাভ করলে সফরকারীরা ৭৬/৯ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ২৫* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ডন ব্র্যাডম্যানের দল ঐ খেলায় ৩৬৫ রানে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পরবর্তী দুই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া দল জয়লাভ করে অ্যাশেজ জয় করে। তবে, শেষ দুই টেস্টে তাঁকে দলে রাখা হয়নি। ব্রিসবেন ও সিডনিতে বাজে ব্যাটিংয়ের কারণে ইংল্যান্ড দল জয় পায়। তিনি বল কিংবা ব্যাট কোনটিতে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে রাখা হয়নি। এ সিরিজে ১৩.৪০ গড়ে ৯ উইকেট দখল করেছিলেন।

এর পূর্বে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে ভিক রিচার্ডসনের নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। তবে, ক্ল্যারি গ্রিমেটবিল ও’রিলি’র ন্যায় স্পিনারদের আধিপত্যে তাঁকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। এ সফরে কেবলমাত্র সাতটি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট লাভ করেছিলেন।

১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ক্রিকেট খেলা চলমান রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৯.৬৪ গড়ে ২০৭৫ রান সংগ্রহ করেন। চৌদ্দটি অর্ধ-শতরানের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ৭৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৩৩.৩৬ গড়ে ১১৬ উইকেট পান। ব্যক্তিগত সেরা ৬/৪৩ লাভ করেছিলেন। চারবার পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ৫৬টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

১ মে, ১৯৬৮ তারিখে হৃদযন্ত্র ক্রীয়ায় আক্রান্ত হলে তাঁকে মেলবোর্ন হাসপাতালে নেয়া হয়। অতঃপর, ১০ মে, ১৯৬৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ব্রান্সউইক এলাকায় ৫৬ বছর ২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট