১ সেপ্টেম্বর, ১৯২১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৪১-৪২ মৌসুম থেকে ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রায় দুই দশক বোম্বে ক্রিকেটের চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। বোম্বে দলকে শক্তিধর দলে রূপান্তরিতকরণে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ১৯৭০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটের উত্থানে অন্যতম ভূমিকা রাখেন।
১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে নাইজেল হাওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। সিডি গোপীনাথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৫০* ও ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নেয়া সিরিজটি অমিমাংসত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে বিনু মানকড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান সফরে যান। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টে সব মিলিয়ে ৬৩ রান, ৮ ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। স্ট্যাম্পের সামনে কিংবা পিছনে – উভয়দিকেই সমান প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ৩৩.৮৬ গড়ে ৪৪০৩ রান ও ১৯২টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ প্রবীর সেন ও নরেন তামানে’র ন্যায় খেলোয়াড়দের সাথে তাঁকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল।
বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা সুনীল গাভাস্কারের মাতৃসম্পর্কীয় কাকা ছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দারুণ খেলেছেন। ৫০ ঊর্ধ্ব গড়ে ২৭৮৭ রান তুলেন। বোম্বের সদস্যরূপে মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২০০ রান তুলেন। এছাড়াও, অ্যাসোসিয়েটেড সিমেন্ট কোম্পানী ও বোম্বে দলের পক্ষে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮০-এর দশকে বোম্বে ক্রিকেট সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ও শিব সেনার মনোহর জোশী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। চিরকুমার ছিলেন। হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৩ মে, ২০১৪ তারিখে ৯২ বছর ২৬৪ দিন বয়সে মুম্বইয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি ভারতের বয়োজ্যেষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
ভারতের সাবেক অধিনায়ক অজিত ওয়াড়েকর তাঁর মৃত্যুতে ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ‘১৯৬৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দল নির্বাচক কমিটির সভায় তিনি শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার নাম রাখেন। তবে, অন্যান্য দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য কিংবা অধিনায়ক টাইগার পতৌদি সাড়া দেননি। মধ্যাহ্নভোজনের পর পতৌদি’র মত আদায় করেন। কেননা, বোম্বের পক্ষে প্রায় এক দশক ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছি ও এ স্থান লাভের দাবীদার ছিলাম। সভা শুরু হবার পরপরই তিনি আমার নাম ঘোষণা করেন।’
স্বরস্বত ব্যাংকের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সাবেক ভারতীয় লেগ-স্পিনার বাপু নদকর্ণী মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি তাঁর জীবনে বিশাল প্রভাব রেখে গেছেন। আমার সমস্ত ক্রিকেটীয় অর্জন কেবলমাত্র মাধব মন্ত্রী ও পলি উমরিগড়ের কারণে হয়েছে। উভয়ের সাথে একত্রে খেলতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান মনে করছি। মাঠ ও মাঠের বাইরে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন। তিনি শৃঙ্খলিত জীবনে অপরের বিরক্তিকে যুক্ত করতেন না। খেলোয়াড়ী জীবনের দিনগুলোয় নির্দিষ্ট সময়ে দলের সকলকে কুচকাওয়াজে অংশ নেয়ার বিষয়ে কিছু নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করেন। কেউ না বলতে পারতো না কিংবা একদিনের জন্যেও কুচকাওয়াজে বিরত থাকতো না।’
