|

রোরি ক্লেইনভেল্ট

১৫ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘দ্য চাবস্টার্স’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন। ২০০২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পান। ২০০২-০৩ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপ কোবরাস ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স বোল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন।

সাউথ আফ্রিকান একাডেমি দলের পক্ষে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থানের পর ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। কয়েকটি খেলায় দূর্বলমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর বর্ডারের বিপক্ষে ৬/২২ পান। এরফলে, দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করেন। দলে থাকাকালীন ওজন সমস্যায় ভুগেন। এরফলে, দলীয় সঙ্গীরা জনপ্রিয় ডব্লিউডব্লিউ কুস্তিগীরের নামানুসরণে ‘বিগ শো’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।

২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে চারটিমাত্র টেস্ট, ১০টি ওডিআই ও ছয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১২-১৩ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। মাইকেল ক্লার্কের অসাধারণ দ্বি-শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনা পর্বটি তেমন সুবিধে করতে পারেননি। বড়সড় দৈহিক গড়নের অধিকারী তিনি। ৫ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। প্রথম বলেই জুনায়েদ সিদ্দিকী’র উইকেট পান। তবে, খুব দ্রুত অবস্থা পাল্টে যায়। পরবর্তী পাঁচ বল থেকে ২০ রান খরচ করতে হয়। ব্যাট হাতে নিয়েও পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে বিবেচিত হননি।

২০১০ সালে টি২০আইয়ে অংশ নিলেও ভালো খেলেননি। দুইটি খেলায় অংশ নিয়ে পাঁচ ওভার বোলিং করে ৬৮ রান খরচ করে ফেলেন। তিন উইকেট পেলেও ওভারপ্রতি বিশাল রান খরচে ম্রিয়মান হয়ে পড়েন। এছাড়াও, ঐ বছর টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলেন। সেন্ট লুসিয়ায় ভারতের বিপক্ষে খেলেন। প্রথম ওভারে মুরালি বিজয়ের উইকেট পান। তবে, খেলার শেষদিকে সুরেশ রায়না’র ধবল ধোলাইয়ের শিকারে পরিণত হন। চার ওভার থেকে ২/৪৮ পান। এরপরও দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত হতে পারেননি। সর্বদাই তিনি দলের তিন প্রধান ফাস্ট বোলারের আঘাত কিংবা বিশ্রামজনিত কারণে তাঁদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হতেন।

ওডিআইগুলো থেকে ১২ ও টি২০আইয়ে নয় উইকেট নিয়ে ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ব্যাট হাতে নিয়ে তেমন রানের সন্ধান পাননি। দক্ষিণ আফ্রিকান ঘরোয়া লীগে কেপ কোবরাসের পক্ষে খেলেন। ২০১২ সালের টি২০ প্রতিযোগিতায় মারিজুয়ানা ব্যবহারের নেতিবাচক ফলাফল আসলে কোবরাস থেকে বাদ পড়েন। এরপর থেকে কিছু ওজন হারান।

২০১২-১৩ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে আরজে কুইনিকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ১/৮১। খেলায় তিনি ১/৮১ ও ৩/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ফাফ ডু প্লিসি’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। এ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৫৩ ও ২/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে মাত্র ১০ উইকেট দখল করেন। এরপর, দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়াতে ব্যর্থ হলে দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৪৯ ও ২/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে রহমত আলী’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। কাইল অ্যাবটের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তেমন খেলার সুযোগ না পেলেও বেশ বর্ণাঢ্যময় প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ১৩৭ খেলা থেকে ৪০৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড় জীবন থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট