৪ জুন, ১৯৫০ তারিখে কেন্টের ডার্টফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘রোজি’ কিংবা ‘হ্যারি’ ডাকনামে ভূষিত ব্রায়ান রোজ ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ার গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে আইলওর্থভিত্তিক বোরা রোড কলেজে পড়াশুনো করেছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সমারসেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
এক পর্যায়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে সমারসেট দল তাদের ক্রিকেটে ইতিহাসের প্রথম শিরোপার সন্ধান পায়। ১৯৭৯ সালে তাঁর অধিনায়কত্বে দলটি জন প্লেয়ার লীগ ও জিলেট কাপের শিরোপা জয় করতে সমর্থ হয়। এ পর্যায়ে অবশ্য দলে ইয়ান বোথাম, ভিভ রিচার্ডস ও জোয়েল গার্নারের ন্যায় তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ছিল। এক পর্যায়ে রে ইলিংওয়ার্থের কাছে অধিনায়কের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। এরপর, বেনসন এন্ড হেজেস সীমিত-ওভারের খেলায় এক ওভার শেষে সমারসেটের ইনিংস ঘোষণায় ব্যাপক সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। ১৮ মিনিটের খেলাটি ক্রিকেটের অন্যতম অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র নয়টি টেস্ট ও দুইটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে মাইক ব্রিয়ার্লি’র অধিনায়কত্বে ইংরেজ দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জিওফ কোপের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে মাত্র ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরে ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে শাহিওয়ালে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। সর্বশেষ ও পরবর্তী ওডিআই ৩০ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে শিয়ালকোটে খেলেছিলেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে জিওফ বয়কটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৮ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত ৪ ও দলীয় ১৪/২ থাকাকালে আঘাতের কারণে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তবে, দলের সংগ্রহ ৬৩/৯ থাকাকালে পুণরায় মাঠে নামেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ড দল প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডকে পরাভূত করেছিল। ৭২ রানে জয়লাভ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মূলতঃ দলের শূন্যতা পূরণকল্পে ৫ টেস্ট খেলেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি নেয়া ইয়ান বোথামের পর আরও চার টেস্টের সবকটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, নিজ দেশে তিনটি ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে এক টেস্টে অংশ নেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ইয়ান বোথামের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ কলিন ক্রফ্টের সুন্দর বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে তাঁর লড়াকু মনোবৃত্তি সবিশেষ লক্ষ্যণীয় ছিল। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ৭০ ও ৩২, ওভালে ৫০ ও ৪১ এবং হেডিংলিতে ৭ ও অপরাজিত ৪৩ রানসহ সিরিজে ৪৮.৬০ গড়ে ২৪৩ রান তুলেছিলেন। কিন্তু, পোর্ট অব স্পেন টেস্টে খুব দ্রুত বিদেয় নেয়ার ফলে তাঁরও টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদেয় ঘণ্টা বেজে উঠে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পর আরও অর্ধ-দশক সমারসেটের পক্ষে খেলেন। ৩৩.২৫ গড়ে ১৩২৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সমারসেটের ক্রিকেট পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আট বছর দায়িত্ব পালন শেষে সেপ্টেম্বর, ২০১২ সালে টানটন ত্যাগ করেন।
