|

মোহাম্মদ ফারুক

৮ এপ্রিল, ১৯৩৮ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের জুনাগড় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ক্লান্তিবিহীন ও প্রকৃত মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। তবে, তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ স্বল্পকালীন ছিল। এছাড়াও, নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বিনোদনধর্মী আগ্রাসী ব্যাটিং করতেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে ফজল মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে বোম্বের বিএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। জাভেদ বার্কি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৪/১৩৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। তন্মধ্যে, নিজস্ব দ্বিতীয় ওভারেই পঙ্কজ রায়আব্বাস আলী বেগের উইকেট পেয়েছিলেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে পুণরায় তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়। এবারও তিনি শতাধিক রান খরচ করেন ও ২/১০১ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। আট খেলা থেকে ৩৩ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৪/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কিন্তু, আঘাত পেলে তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে বেশ সফল হন। ১০ উইকেট লাভে তাঁকে ২৫.৩০ গড়ে রান খরচ করতে হয়েছিল। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে সফলতা পান। রাওয়ালপিন্ডিতে ১১ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৭ রান তুলেন।

৯ এপ্রিল, ১৯৬৫ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/৫৯ ও ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। এছাড়াও, এ তিনটি টেস্টই তাঁর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের শেষ খেলা ছিল।

সম্পৃক্ত পোস্ট