৯ জুলাই, ১৯৮৫ তারিখে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। প্রতিভাবান ডানহাতি ব্যাটসম্যান তিনি। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১০ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডে তাঁর পরিবার অভিবাসিত হন। সর্বদাই ক্রিকেট ঘিরে তাঁর জগৎ গড়ে উঠেছিল। বিদ্যালয় জীবনে ক্রিকেট খেলায় দক্ষ হয়ে বিদ্যালয়ে সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার ক্রিস কাগেলিনের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। হ্যামিল্টন বয়েজ হাই স্কুলে নিজেকে আরও বিকশিত করেন। দুইবার জিলেট কাপ জয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দারুণ খেলে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। ছয় খেলা থেকে একটি শতক ও একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৬৮ রান তুলেন।
৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ২০০৪ সালে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে উইকেট-রক্ষক হিসেবে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। এছাড়াও, দলের ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ৭৫ টেস্ট, ২৮টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৯ সালের শেষদিকে দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০ আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার জন্যে নিউজিল্যান্ড দলের সদস্য হন। ৩৬ বল থেকে ২২ রান তুলেন। ঐ খেলায় কিউইরা ৪৯ রানে পরাজয়বরণ করে।
এর এক সপ্তাহ পর ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে ফিরতি সফরে মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯ তারিখে নেপিয়ারে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৮ ও ৬০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়।
পরবর্তীতে, ১৩ আগস্ট, ২০১০ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৫৫ রান সংগ্রহ করলেও কিউই দল পরাজিত হয়। নভেম্বর, ২০১২ সালে একই দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৯৬ রান তুলেন।
২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। এ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৯ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ৩৪ রানে পরাজয়বরণ করে।
মে, ২০১২ সালে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। নিজস্ব প্রথম শতকের সন্ধান পান। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।
২০১২-১৩ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ভার্নন ফিল্যান্ডারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৫ রানে পৌঁছানোকালে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ৬৩ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৯ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১০৩ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, সোহাগ গাজী’র অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০৩ রান অতিক্রম করেছিলেন। খেলায় তিনি ০ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ত্রি-শতক স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৪ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২৪ রান অতিক্রম করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ১৪২ রানের ইনিংস খেলে স্বাগতিক দলের জয় নিশ্চিত করেন। প্রথম ইনিংসে অবশ্য ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ছয়টি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে যুক্ত থাকাসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে সফরকারীরা ১৯৩ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
দলের ইতিহাসে ষষ্ঠ উইকেটে ছয়টি দ্বি-শতরানের ইনিংসের তিনটিতে যুক্ত রয়েছেন। তন্মধ্যে, অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সাথে একটি খেলায় জুটি গড়েন ও ম্যাককালামের ইনিংসকে ত্রি-শতকে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেন।
২০১৫ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৯ মে, ২০১৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অনবদ্য ব্যাটিংয়ে সফরকারীরা ১৯৯ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৬ সালে ভারত সফরে তাঁর খেলায় ছন্দপতন লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে টম ব্লান্ডেলের কাছে স্থানচ্যূত হন। ২০১৭ সালে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর বেশ কিছুদিন আর খেলতে দেখা যায়নি।
২০১৯-২০ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ১৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৩৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
২০২১ সালে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় অংশ নিতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ জুন, ২০২১ তারিখে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় ভারতের বিপক্ষে খেলেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, কাইল জেমিসনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে নিউজিল্যান্ড দল ৮ উইকেটে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
