|

সমীর দীঘে

৮ অক্টোবর, ১৯৬৮ তারিখে মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, এয়ার ইন্ডিয়া’র পক্ষে খেলেছেন।

২০০০ থেকে ২০০১ সময়কালে ভারতের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

একই মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দারুণ টেস্ট অভিষেক ঘটে তাঁর। মুম্বইয়ের চিপক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৫ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় দলের সংগ্রহ ১২২/৫ থাকা অবস্থায় ভিভিএস লক্ষ্মণের সাথে জুটি গড়েন। ভিভিএস লক্ষ্মণের বিদেয়ের পর অপর অভিষেকধারী স্বরাজ বাহুতুলে ৩ বল খেলে প্যাভিলিয়নের দিকে পাড়ি জমালে দলের জয় তখনও ২০ রান বাকী ছিল। গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বল থেকে জয়সূচক রান সংগ্রহ করেন। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র ৪ রানে বিদেয় নেন। এরপূর্বে হরভজন সিংয়ের বলে তাসমানিয়া থেকে আগত রিকি পন্টিংকে গোল্ডেন ডাকে বিদেয় করেছিলেন। হরভজন সিংয়ের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে তাঁর দল দুই উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

২০০১-০২ মৌসুমে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৪ রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যের কারণে খেলাটিতে সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৭ রানে জয় পায়। পাশাপাশি, ২-১ ব্যবধানে তাঁর দল সিরিজে পরাজয়বরণ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ১৫.৬৭ গড়ে ১৪১ রান পেয়েছেন। এছাড়াও, ১২ ক্যাচ ও ২ স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। ওডিআই থেকে একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ২৩.২৭ গড়ে ২৫৬ রান, ১৯ ক্যাচ ও ৫ স্ট্যাম্পিং করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে বর্ণাঢ্যময় সময় অতিবাহিত করেছেন। ৮৩ খেলা থেকে দশ শতক সহযোগে ৩৫.৯৮ গড়ে ৩৯৫৮ রান তুলেছেন। পাশাপাশি, গ্লাভস হাতে নিয়ে ২৪৩ ক্যাচ ও ৩৫ স্ট্যাম্পিং করেছেন।

চাপ সামলে স্থিরচিত্তে, দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। দৃষ্টিনন্দন খেলা প্রদর্শনের চেয়ে সংযত ভঙ্গীমায় খেলতেই তিনি অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের সূচনাকাল পর্যন্ত মুম্বইয়ের পক্ষে ব্যাটসম্যান, উইকেট-রক্ষক ও অধিনায়ক হিসেবে অংশ নেন।

নিবেদিতপ্রাণ ব্যাটসম্যান, উইকেট-রক্ষক ও মুম্বই অধিনায়ক। মুম্বই দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। ভারতের অন্যতম পরিচিত বীর হিসেবে রানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশ নেন। টেস্ট অভিষেকে অন্যতম সেরা সিরিজে অংশ নিয়ে জয়সূচক রান সংগ্রহে খ্যাতি লাভ করেন। পুরো খেলোয়াড়ী জীবনে মুম্বইয়ের পক্ষে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট