| |

শাহ ন্যালচাঁদ

১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গুজরাতের ধ্রাঙ্গাধ্রায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৩৯-৪০ মৌসুম থেকে ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। পঁচিশ বছর ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে গুজরাত, কাঠিয়াবর ও ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সৌরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ব্যাটসম্যানের মর্যাদা পান। তবে, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হয়তোবা উচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে সেরা তারকায় পরিণত হতে পারতেন। বামহাতি সিমার হিসেবে মূলতঃ ম্যাটিং উইকেটেই অধিক সফল ছিলেন। ফলশ্রুতিতে ফ্রাঙ্ক ওরেলের কাছ থেকে ম্যাটিং উইকেটের প্রভু হিসেবে চিত্রিত হন। তিনি পাকিস্তানী তারকা বোলার ফজল মাহমুদের সমসাময়িক ছিলেন।

মাত্র ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়েও মিডিয়াম-পেসার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন। রঞ্জী ট্রফিতে খ্যাতিমান খেলোয়াড় ছিলেন ও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৩ গড়ে ২৩৫ উইকেট দখল করেছেন। সৌরাষ্ট্রের পক্ষে ২৯ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। অধিকাংশ উইকেটই সৌরাষ্ট্রের পক্ষে পেয়েছেন। ২২ গড়ে ১২৫ উইকেট পান। অন্য কোন বোলার ইনিংসে দুইবার ৭ উইকেট না পেলেও একমাত্র বোলার হিসেবে তিনবার সাত উইকেট পেয়েছেন। সিমার হওয়া সত্ত্বেও এক ইনিংসে তিনবার ৫০ ওভার ও একবার ইনিংসে ৭৩ ওভার বোলিং করেছেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে বরোদার বিপক্ষে সর্বাধিক ৪৩৮ বল করেছেন। এ পর্যায়ে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ছিল ৭৩-২৪-১২৩-৫। পরবর্তীকালে ১৯৮১-৮২ মৌসুমে বিহারের বিপক্ষে উদয় জোশী ৭৩-২০-১৩৬-১ করে তাঁর রেকর্ড ভঙ্গ করেন।

১৯৫২ সালে ভারতের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৩ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। হীরালাল গায়কোয়াড়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ফজল মাহমুদ খেলায় ৯৪ রান খরচায় ১২ উইকেট পান। ফলশ্রুতিতে, সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত দল ঐ টেস্টে ইনিংস ও ৪৩ রানে পরাজিত হয়েছিল। পাশাপাশি, পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। তিনি ৬৪-৩৩-৯৭-৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়লেও অন্য কেউ এক ইনিংসে এতো ওভার বোলিং করেননি। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যানত্রয় – মাকসুদ আহমেদ, আব্দুল হাফিজ কারদার ও আনোয়ার হুসাইন তাঁর শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৬* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এরপর আর তাঁকে টেস্ট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

দীর্ঘদিন খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও মাত্র ৫৭ খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সব মিলিয়ে ২২.৫৭ গড়ে ২৩৫ উইকেট দখল করেছেন। পনেরোবার পাঁচ-উইকেট ও ছয়বার দশ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যাট হাতে মোটেই সুবিধের ছিলেন না। ফলশ্রুতিতে, দল থেকে বাদ পড়েন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ব্যাট হাতে ৭.৬৩ গড়ে রান পান ও ব্যক্তিগত সেরা করেন ৩৩ রান। ৪৬ বছর বয়সেও খেলার জগতে সরব ছিলেন। মৌসুমের শেষ দুই খেলায় ৯৯ রান খরচায় ১০ ও ৬৪ রান খরচায় ১১ উইকেট দখল করেছিলেন। পরের মৌসুমেও ১০৩ রান খরচায় ১০ উইকেট পান। ৪৮ বছর বয়সেও তিনি খেলতে থাকেন।

গুজরাতভিত্তিক পিডব্লিউডিতে ড্রাফটসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। এরপর কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ৪ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ৭৭ বছর ১১২ দিন বয়সে গুজরাতের জুনাগড় এলাকায় হৃদযন্ত্রক্রীয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট