৮ আগস্ট, ১৮৮৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কলিংউডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতে পারতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্কটল্যান্ডীয় বংশোদ্ভূত কাঠমিস্ত্রী হেনরি জন রাইডার ও এলেন দম্পতির পঞ্চম সন্তান ছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে আসা পরিবারটি ‘সাধারণ শ্রমজীবী পরিবার’ হিসেবে চিত্রিত হয়েছিল। স্থানীয় রাজ্য বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ১৪ বছর বয়সে ফিটজরয়ের টমাস ডেভিসের জুতা তৈরীর কারখানায় শিক্ষানবীস হিসেবে যোগ দেন। এরপর, গুদামরক্ষক ও বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, আরেকটি জুতা তৈরির প্রতিষ্ঠান অ্যাবটসফোর্ডভিত্তিক হোয়াইব্রো এন্ড কোং প্রাইভেট লিমিটেডে জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
চমৎকার ক্রিকেটার ছিলেন ও বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। প্রায় ৬ ফুট ২ ইঞ্চি (১.৮৮ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন ছিলেন। ১৯১২-১৩ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯২০ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২০-২১ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ডিসেম্বর, ১৯২০ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। আর্থার মেইলি, নিপ পেলিও, হার্বি কলিন্স, জ্যাক গ্রিগরি, জনি টেলর ও বার্ট ওল্ডফিল্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই রান-আউটে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২০ ও ০/২৪ বোলিং বিশ্লেষণসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩৭৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতে তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। তবে, স্বাগতিক দলের সিরিজ বিজয়ে খুব কমই অবদান রেখেছিলেন।
১৯২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে নিয়মিত অধিনায়ক ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অসুস্থতার কারণে হার্বি কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ৫ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৮* ও ৫৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই সফরের ২৬ নভেম্বর, ১৯২১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৭৮ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ২/২৫ ও ০/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
টেস্টগুলো থেকে তিন শতক সহযোগে ৫১.৬২ গড়ে রান তুলেছেন। এছাড়াও, ১৭ উইকেট দখল করেছিলেন। এরফলে, ‘দ্য কিং’ ডাকনামে ভূষিত হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে নিজের স্বর্ণালী সময় নষ্ট হলেও তিনি এ সাফল্যের অধিকারী হন। তবে, অধিনায়কের দায়িত্বে থাকাকালীন ডন ব্র্যাডম্যানের টেস্ট অভিষেক পর্বের কারণে অধিক স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩৩ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৩ ও ০/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৬৩ ও ৮৭ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, উভয় ইনিংসেই জ্যাক হোয়াইটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/২০ ও ১/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৮ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৩০ ও ৫৭* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৭ জুন, ১৯১৬ তারিখে ইস্ট মেলবোর্নের কেয়ার্নস মেমোরিয়াল চার্চে ফ্যানি ডগলাস স্মিথের সাথে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন। মানসিক অবসাদসহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চাকুরী হারান। স্যার রবার্ট মেঞ্জিসের সুপারিশক্রমে জুতা পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, হথর্নভিত্তিক অস্ট্রেলিয়ান মোটর ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানীতে গুদামরক্ষক কেরাণী হিসেবে যোগ দেন।
৩ এপ্রিল, ১৯৭৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফিটজরয় এলাকায় ৮৭ বছর ২৩৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। এর দুই দিন পূর্বে শতবার্ষিকী টেস্টে বয়োজ্যেষ্ঠ সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থিত থাকেন। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে ২৫ জুন, ২০১৫ তারিখে সিডনিতে অ্যালান বর্ডার পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সাথে তাঁকে মরণোত্তর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
