১৫ জুলাই, ১৯৭৭ তারিখে ট্রান্সভালের জার্মিস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ২০০০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৬ ইঞ্চি দীর্ঘকায় গড়ন ও পেশীবহুল দেহের অধিকারী। আক্রমণাত্মক ভঙ্গীমায় ও নাটকীয়তা আনয়ণে নিজের পরিচয় তুলে ধরতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০১০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্নস, লায়ন্স ও টাইটান্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, নর্দাম্পটনশায়ার ও সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও সাউদার্ন রক্সের পক্ষে খেলেছেন।

২০০৫ থেকে ২০০৮ সময়কালে এসেক্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০১ সালে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর খেলায় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা অ্যালান ডোনাল্ডের বাউন্সারে কাবু হয়ে পড়েন।

২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৩৬ টেস্ট, ৭৯টি ওডিআই ও দুইটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ১২ মে, ২০০১ তারিখে পোর্ট অব স্পেনের কুইন্স পার্ক ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় তিনি তিন উইকেট পেয়েছিলেন। অভিষেক মৌসুমে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে সফরকালে পাঁচজন দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে মারিজুয়ানা সেবনের দায়ে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন।

একই বছরের আগস্টে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০০১-০২ মৌসুমে শন পোলকের নেতৃত্বে স্প্রিংবকের সদস্যরূপে খেলেন। ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অংশ নেন। ক্লড হেন্ডারসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি পাঁচ উইকেট পান। ৪/৫৩ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কোন ইনিংসেই ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। তবে, অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের বীরোচিত ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০১-০২ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০০২ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/১২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৬০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০৩-০৪ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহসহ ০/৯১ ও ১/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। জ্যাক ক্যালিসের অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২২ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, কেপটাউন টেস্টে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান।

পরের বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলার জন্যে আহুত হন। ৮১ রান খরচায় ৬ উইকেট পান। ঐ বছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। তিন টেস্ট থেকে ১৪ উইকেট লাভ করেন। এ পর্যায়ে একাদশ দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার হিসেবে শততম টেস্ট উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

২০০৫-০৬ মৌসুমের অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দলে নিয়মিত খেলোয়াড় খেলোয়াড়ের মর্যাদা হারান। অস্ট্রেলিয়ার ফিরতি সফরে শেষ মুহূর্তে তাঁকে দলে রাখা হয়। ঐ মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। অস্ট্রেলীয় উইকেট-রক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্টের তোপে পড়েন। এক ওভার থেকে ২২ রান খরচ করে ফেলেন। ১৬ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৩/২৯ ও ১/১০৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ব্রাড হজের দূর্দান্ত প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কা সফরেও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন। এছাড়াও, ভারতের এস শ্রীশান্ত তাঁর বল থেকে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে অনুষ্ঠিত ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা খেলা উপহার দেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে শীর্ষ পাঁচজন ব্যাটসম্যানের চারটি লাভ করেন। তাসত্ত্বেও তাঁর দল ৬৭ রানের ব্যবধানে পরাজয়ের কবলে পড়ে।

অ্যালান ডোনাল্ডের অবসর গ্রহণজনিত শূন্যতা পূরণে যথাযথভাবে এগিয়ে আসেন। খোলা বক্ষে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। পেস ও উদর বরাবর বাউন্সারে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের সমীহের পাত্রে পরিণত হন। তবে, ডেল স্টেইনের উত্থানে তাঁর খেলার সুযোগ কমে আসে। এক পর্যায়ে ২৫ মার্চ, ২০০৯ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। তবে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।

২০০৮ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ৩* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৬ ও ০/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কেভিন পিটারসনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ৩১.৮৬ গড়ে ১২৩ উইকেট এবং ওডিআই থেকে ২৭.৬৮ গড়ে ১০৬ উইকেটের সন্ধান পেয়েছেন। ব্রায়ান লারাকে আটবার বিদেয় করে প্রিয় শিকারে পরিণত করেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। র‌্যাম স্ল্যাম টি২০ প্রতিযোগিতায় ফ্যান্টমে দুই মৌসুম প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, আফ্রিকা টি২০ প্রতিযোগিতায় ইস্টার্নসের কোচ হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সাল থেকে সাউথ আফ্রিকান ন্যাশনাল একাডেমির সহকারী ও বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর, এসেক্সের সহকারী কোচ ও বোলিং কোচ হিসেবে তিন মৌসুম অতিবাহিত করেন। ১১ মার্চ, ২০১৯ তারিখে থেকে দিমিত্রি মাসকারেনহাসের পরিবর্তে চেমসফোর্ডে অবস্থানকালে চারটি ট্রফি বিজয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। অতঃপর, ৩ নভেম্বর, ২০২১ তারিখে এ দায়িত্ব থেকে সড়ে আসেন।

ইংল্যান্ডে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণকালীন জেলেনা কালটিয়াসোভা’র সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে তুলেন। আরও তিনজন রমণী তাঁদের সাথে ঘুমিয়েছেন দাবী করলে অক্টোবর, ২০১০ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

সম্পৃক্ত পোস্ট