১৬ অক্টোবর, ১৯৭১ তারিখে কর্ণাটকের আড়াসিক্রে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০১-০২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বেলাগাভী প্যান্থার্সের পক্ষে খেলেছেন। পর্যাপ্ত পেস সহযোগে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। স্বল্পকালীন খেলোয়াড়ী জীবন হলেও কর্ণাটকের পক্ষে দারুণ সময় অতিবাহিত করেছেন। রাজ্য পর্যায়ে প্রকৃতমানসম্পন্ন গতিদানবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে ভারত দলের চতুর্থ সীমার হিসেবে জবাগল শ্রীনাথ, বেঙ্কটেশ প্রসাদ ও দোদ্দা গণেশের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। এছাড়াও, দলে দুই স্পিনার অনিল কুম্বলে ও সুনীল জোশী’র উপস্থিতি ছিল।
১৯৯৪-৯৫ ও ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে যথাক্রমে ২৫ ও ৩০ উইকেট দখল করেছিলেন। জবাগল শ্রীনাথের আঘাতজনিত অনুপস্থিতি ও নিজ দেশে কিছু উৎসাহব্যঞ্জক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তাঁকে ভারত দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়।
১৯৯৬ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ অক্টোবর, ১৯৯৬ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে অনিল কুম্বলে, সুনীল জোশী ও আশীষ কাপুর সফলতা পেলে তিনি মাত্র ৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ ওভার বোলিং করলেও তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল ছিল। মাইকেল স্লেটারের উইকেট পেলেও ওয়াইড বলের কারণে তা বাতিল হয়ে যায় ও এর খেসারত গুণতে হয়। মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনের অন্যতম বিস্ময়কর ক্যাচে পরিণত করেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল নয়ন মোঙ্গিয়া’র দূর্দান্ত ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে।
এছাড়াও, একই মৌসুমে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে মনোনীত হন। তবে, ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টের পর তাঁকে বাদ দেয়া হয় ও কর্ণাটকের সতীর্থ পেসার দোদ্দা গণেশকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। ঐ টেস্টে দুই উইকেট পেলেও ছন্দ ছিল না ও সময়ে সময়ে বেশ শর্ট বল ছিল। এছাড়াও, দলের সংগ্রহ ৮৯/৮ থাকাকালীন অ্যালান ডোনাল্ডের বল মিড-অনে ফেলার চেষ্টাকালে বিদেয় নেন। খেলায় তাঁর দল ৩২৮ রানে পরাজয়বরণ করে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। দল থেকে বাদ পড়ার পর ফ্রি স্টেটের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় পাঁচ-উইকেট পান। তাসত্ত্বেও, তাঁকে আর টেস্ট দলে ঠাঁই দেয়া হয়নি।
প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে কয়েকটি খেলায় দারুণ খেলেন। গোয়ার বিপক্ষে ১১-০-৫৭-৪ ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিপক্ষে ৮.৫-০-৬৫-৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরপর পর্দার অন্তরালে চলে যান। গোয়ার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় শতক হাঁকিয়েছিলেন। পাশাপাশি, কেপিএলে অংশ নিয়েছিলেন। ২৮ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে বিদেয় নেন। অথচ, নিজের সেরা দিনগুলোয় তাঁকে ভারতের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে বিবেচনায় আনা হতো। দুই বছর পর অবশ্য তাঁকে পুণরায় খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ভারতের ফাস্ট বোলিং পরীক্ষাগারে আরও এক ব্যর্থতার প্রতিমূর্তি হয়ে পড়েন।
ডিটিডিসিতে চাকুরী করেন। হংকং সুপার সিক্সেসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০০৯ সালে কেপিএল স্থগিত হয়ে পড়লে তিনি ঐ প্রতিযোগিতার বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় ছিলেন।
