২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম জেলার ওয়ালাজাবাদ এলাকার উথুকাডুতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘নাইডু’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। খুব সহজে হার না মানার মানসিকতাসম্পন্ন ছিলেন। ডানহাতি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার হিসেবে বলকে উভয় দিক দিয়েই সুইং করানোয় পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেছেন। শারীরিক উচ্চতার কারণেও বলকে পর্যাপ্ত উচ্চতায় রাখতে সহায়তা করেছে। যে-কোন পরিবেশেই মাঠে সর্বদা হাসিমুখে থাকার কারণে পরিচিতি লাভ করেছেন।
২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আলবার্ট টুটি প্যাট্রিয়টস, চেন্নাই সুপার কিংস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০১ সালে তামিলনাড়ুর পক্ষে রঞ্জী ট্রফিতে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। সুন্দর খেলার কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। স্বল্পসংখ্যক ভারতীয় ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে নিউজিল্যান্ডীয় প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন। ওয়েলিংটন ফায়ারবার্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি। ২০০২ সালে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।
২০০২ থেকে ২০১২ সময়কালে ভারতের পক্ষে আটটিমাত্র টেস্ট, ৩০টি ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। স্বল্পসংখ্যক টেস্টে অংশগ্রহণ করলেও অনেকগুলো ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনে তেমন সফলতা পাননি। দল থেকে বাদ পড়ার পর চমৎকার খেলেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ খেলেন। তবে, রান খরচে স্ফীতরতার কারণে ব্যাপক অর্থে নিরাশ করেন। ১৮ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে বরোদরায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক ঘটে। ৪ ওভারে ৪৪ রান খরচ করে ফেলেন ও হতাশাময় দিন অতিবাহিত করেন। ফলশ্রুতিতে কিছু সময় দলের বাইরে অবস্থান করতে হয়।
২০০২-০৩ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে ১২ উইকেট পান। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৮ অক্টোবর, ২০০৩ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আকাশ চোপড়া’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি মাত্র এক উইকেট দখল করেন। রাহুল দ্রাবিড়ের প্রাণান্তঃকর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ড দল খেলাটিকে ড্রয়ে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিল ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
শারীরিক সচেতনতার অভাব ও হাঁড়ে ফাটলের কারণে ২০০৫ সালে কার্যতঃ তাঁর টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। ২০০৪-০৫ মৌসুমে নিজ দেশে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০০৫ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ১/১১৪ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ১৬৮ রানে জয় পেয়ে ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১২ তারিখে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। তবে, নিউজিল্যান্ড দল নাটকীয়ভাবে খেলায় জয় পায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে মনোনিবেশ ঘটান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে তিন মৌসুম খেলেন। এ পর্যায়ে হ্যাট্রিকসহ পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের সদস্য ছিলেন। তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লীগে অংশ নিয়েছেন ও আলবার্ট টুটি প্যাট্রিয়টসের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। তামিলনাড়ু ও আলবার্ট টুটি প্যাট্রিয়টসের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।
২০১৬ সালের নভেম্বরে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন। এরপর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন।
