মহেশ গুণতিলকে

১৬ আগস্ট, ১৯৫২ তারিখে কিগালে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ কার্যকর উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৮০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৮২ সালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

একই সফরের ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কলম্বোর পিএসএসে অন্য সকলের সাথে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২২* ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জন অ্যাম্বুরি’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

ফয়সালাবাদে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন। প্রথম ইনিংসে ২৭ রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রান তুলে দলের শীর্ষ রান সংগ্রহকারীতে পরিণত হন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, দিলীপ মেন্ডিসের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে শ্রীলঙ্কার অন্তর্ভুক্তিতে দলের উইকেট-রক্ষক হিসেবে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন। পরিচ্ছন্ন খেলোয়াড় হিসেবে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। টেস্টগুলোয় তিনি প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। উইকেটের পিছনে অবস্থান করে পেস কিংবা স্পিন বল দক্ষতার সাথে মোকাবেলায় যথেষ্ট তৎপরতা দেখিয়েছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেন ও কিছু দূর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে রান তুলে সুনাম কুড়িয়েছিলেন।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে তৎকালীন নিষিদ্ধঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের ফলে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন। ইতোমধ্যে আরও যোগ্যতাসম্পন্ন খেলোয়াড়কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। এভাবেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে পরিসমাপ্তি ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট