১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫০ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিজটাউন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।
যুগোস্লাভীয় দম্পতির সন্তান ছিলেন। তাঁর পারিবারিক নাম ছিল ডার্টানোভিচ। তরুণ অবস্থায় বেশ ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার ছিলেন। ব্যাটসম্যানেরা তাঁকে সমীহ করে চলুক, তা চাইতেন। আবার নিজেও ভীত ছিলেন। কেননা, তাঁকেও হয়তোবা অপর কেউ আঘাত করতে পারে। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৮৩-৮৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৪ টেস্ট ও ২৯টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৭ সালে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ জুন, ১৯৭৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। একই সফরের ১৬ জুন, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ক্রেগ সার্জেন্ট ও রিচি রবিনসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫৩ ও ৩/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বব উলমারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৯৪ ও ৩/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যালান বর্ডারের অসাধারণ ব্যাটিং দাপট সত্ত্বেও সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষমতা দেখায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে এসে বোলিংয়ের ধরন পাল্টিয়ে ডেনিস লিলি ও ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলারদের অনুরূপ বোলিংয়ে অগ্রসর হন। সমসাময়িক ডেনিস লিলি, ম্যাক্স ওয়াকার, রডনি হগ ও জেফ থমসনের সাথে একত্রে থেকে স্বল্প কয়েকটি টেস্ট খেলার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও, ২৬ গড়ে ৬৪ উইকেট পেয়েছিলেন। ওডিআইয়ে ২০ গড়ে উইকেট পেয়েছেন। কমপক্ষে ৫০ উইকেট লাভকারী বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরার তালিকায় অবস্থান করছেন। বিস্ময়করভাবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বাইরে কোন টেস্ট খেলেননি। তবে, কয়েকটি ওডিআই নিউজিল্যান্ডে খেলেছেন।
অন্যতম সেরা ফাস্ট-বোলারদের সাথে একত্রে খেলার কারণে তেমন সফলতা পাননি। ১৯৮০ সালে লর্ডসের শতবার্ষিকী টেস্টে একমাত্র পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত ২৭ ইনিংসের কেবলমাত্র দুইবার উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। তবে, প্রত্যেক টেস্টেই কমপক্ষে তিনটি উইকেট পেয়েছেন।
১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে খেলেন। দিবা-রাত্রির ক্রিকেটের প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন। ‘আমরা কেন কৃত্রিম আলোয় ক্রিকেট খেলতে পারি না? বেসবল, ফুটবলের ন্যায় খেলাগুলো যদি আয়োজন করা হয়, তাহলে ক্রিকেট কেন নয়!’
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ঝুঁকে পড়েন। নিউ সাউথ ওয়েলসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্রীড়া বিনোদন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
