১৬ জুন, ১৮৯৬ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মাদ্রাজ ক্রিকেটের হর্তাকর্তা বুচি বাবু নায়ড়ু’র কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। অপর দুই ভাইসহ স্বীয় সন্তান এবং চার ভ্রাতৃষ্পুত্র ও এক দৌহিত্র প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছে। দীর্ঘদেহী ও শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। সামনের পায়ে ভর রেখে দুর্দান্ত স্ট্রোক খেলতেন। উইকেটের উভয় পার্শ্বে তাঁর এ ধরনের স্ট্রোক বেশ দর্শনীয় ছিল।
১৯১৫-১৬ মৌসুম থেকে ১৯৪১-৪২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মাদ্রাজের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯১৫-১৬ মৌসুমে ইউরোপিয়ান্সের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। ইন্ডিয়ান্সের সদস্যরূপে খেলে ২১ ও ৩১ রান তুলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে বল হাতে নিয়ে ২/২৪ লাভ করেন। ঐ মৌসুমের পরের খেলায় ৮২ ও ৪৪ রান সংগ্রহের পাশাপাশি ১২৬ রান খরচায় ৬ উইকেট দখল করেন।
মাদ্রাজ ক্রিকেটে বেশ গতির সঞ্চার হয়। তবে, এক বছরের জন্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণে ব্যাহত হয়। ১৯১৯ সালে কেমব্রিজে অধ্যয়নের পূর্বে মাত্র চার খেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ১৯২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে পড়াশুনো করেন।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের দ্বৈত খেলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। নেদারল্যান্ডস সফরে খেলায় বিজয়ী হন। ডেভিস কাপ দলে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ভারত দল বেকেনহামে রোমানিয়ার বিপক্ষে ৫-০ ব্যবধানে জয় পায়। তিনি কেবল দ্বৈত খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ড. হাসান-আলী ফাইজি’র সাথে জুটি গড়ে নিকোলাই মিসু এবং মিসু স্টার্নের বিপক্ষে ৬-২, ৬-৪ ও ৬-০ ব্যবধানে জয়লাভে সক্ষম হন।
এছাড়াও, ঐ বছরই উইম্বলেডনে অংশ নেন। প্রথম রাউন্ডে ব্রিটেনের ইউলিসিস উইলিয়ামসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ৫-৭, ৮-১০, ৬-০, ১৪-১২ ও ৬-৩ ব্যবধানে জয় পান। এরপর, নিকোলাই মিসু তাঁকে ৬-১, ৬-৪ ও ৬-৩ ব্যবধানে পরাজিত করেন।
একক থেকে বাদ পড়ার পর ডেভিস কাপে স্পেনের বিপক্ষে ভারতের দ্বৈত দলে অংশ নেন। ভারত দল ১-৪ ব্যবধানে পরাজিত হলেও ড. ফাইজি’র সাথে জুটি গড়ে এদোয়ার্দো ফ্লাকুয়ের ও ম্যানুয়েল দ্য গোমারকে ৩-৬৬, ৭-৫, ১১-৯, ৮-১০ ও ৬-৪ ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেট ও ডেভিস কাপ টেনিসে ভারতের পক্ষে খেলেছেন। এমজে গোপালনের হকিতে অংশগ্রহণের পর ভারতের দুইজন ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে আরেকটি ক্রীড়ায় অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও, চার টেস্টে অংশগ্রহণকারী ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান রাল্ফ লিগল ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে কেনিয়ার দলনায়ক আসিফ করিমের ন্যায় তিনিও ডেভিস কাপে খেলেছেন।
১৯৩৬ সালে ভারতের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ঐ বছর বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বে ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ২৫ জুলাই, ১৯৩৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ড অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খোরশেদ মেহেরামজী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, অংশগ্রহণকৃত টেস্টটিতে তেমন সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। অমর সিংয়ের বলে ইংরেজ অধিনায়ক গাবি অ্যালেনের ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেলেও শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ২৯ ও ৪১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় তাঁর দল ৯ উইকেটে জয় পেয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বামহাতে চমৎকার ব্যাটিং করতেন। ২৭ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ৫৩টি খেলায় অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে ২৮.৯১ গড়ে দুই শতক সহযোগে ২৪০০ রান তুলেছেন। এছাড়াও, ৩৩.০৬ গড়ে ৩০ উইকেট দখল করেছেন।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে ভারত দলের ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। পরবর্তী এক দশকে জাতীয় দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে চারজন অধিনায়ক মনোনয়নের সাথে নিজেকে জড়ান।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সি রামস্বরূপ নামীয় সন্তানের জনক। ১৫ অক্টোবর, ১৯৮৫ তারিখে আদিয়ারের নিজ গৃহত্যাগ করেন। মাঝে-মধ্যে তাঁকে দেখা গেলেও কেউ নিশ্চিত করে তাঁর অবস্থান বলতে পারেননি। উইজডেনে কার্যতঃ মৃত অবস্থায় তাঁকে লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে, জানুয়ারি, ১৯৯০ সালে সর্বত্র মৃতরূপে লিপিবদ্ধ হয়ে আছেন।
