|

নবদীপ সাইনি

২৩ নভেম্বর, ১৯৯২ তারিখে হরিয়াণার কার্নালে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

হরিয়াণা সরকারের অধীন গাড়ীচালকের সন্তান ও ডানহাতি পেসার। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেট ক্রিকেটে দিল্লি দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ও দলের অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রাজস্থান রয়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন।

২১ বছর বয়সে ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৩ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিদর্ভ বনাম দিল্লির মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১৩-১৪ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় রোশনারা ক্লাব মাঠে অভিষেকের পূর্বে ডিডিসিএ দল নির্বাচক কমিটি তাঁর অন্তর্ভুক্তিতে বেঁকে বসে। কেননা, তিনি হরিয়াণার সন্তান ও দিল্লির খেলোয়াড় নন। তবে, গৌতম গম্ভীর তাঁর পার্শ্বে থাকেন ও দল নির্বাচকমণ্ডলীকে প্রথম একাদশে খেলাতে বাধ্য করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমের ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দারুণ খেলা প্রদর্শন করে সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। ঐ মৌসুমে ৩৪ উইকেট দখল করে দিল্লির সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হন ও দলকে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। এছাড়াও, ২০১৮-১৯ মৌসুমের বিজয় হাজারে ট্রফিতে দিল্লি দলের পক্ষে ১৬ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন।

ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে দিল্লির বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল তাঁকে ₹১০ লাখ রূপীর বিনিময়ে কিনে নেয়। তবে, তিনি কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। বলে সুইং আনয়ণ ও পর্যাপ্ত পেস আনয়ণে ঘরোয়া আসরে বেশ সাড়া জাগান। স্বল্পসংখ্যক বোলারদের অন্যতম হিসেবে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। শেষের দিকের ওভারগুলোয় পা বরাবর ইয়র্কার মারা ও ধীরগতিসম্পন্ন বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। তাঁর শীর্ষে আরোহণের বিষয়টি কোন অংশেই কল্পলোক ভ্রমণের চেয়ে কম ছিল না। লিকলিকে, পাকামী চেহারার অধিকারী পেস বোলার হিসেবে তিনি পেস ও নিখুঁত বোলিংয়ে সকলকে বিমোহিত করেছেন।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে ২০১৮ সালের ইন্ডিয়ান টি২০ লীগের নিলামে ব্যাঙ্গালুরুর বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর কর্তৃপক্ষ ₹৩ কোটি রূপীতে চুক্তিবদ্ধ করায়। ঐ আসরে খেলার সুযোগ না পেলেও ২০১৯ সালের আসরে দলের দ্বিতীয় সফলতম বোলারে পরিণত হন।

ঘরোয়া আসরে লাল-বলের খেলায় দূর্দান্ত পেস ও সুইংয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ভারত দলের সদস্যরূপে ঠাঁই পান। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারত দলের সাথে যান ও অনুশীলনীতে বোলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতা শেষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে ভারতের ওডিআই ও টি২০আই দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৯ সাল থেকে ভারতের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৩ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে লডারহিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। নিজস্ব প্রথম টি২০আইয়ে স্বপ্নীল অভিষেক হয়। ৩ উইকেট লাভ করেন ও ষষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর তারিখে কটকে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০২০-২১ মৌসুমে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৭ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৬৫ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, স্টিভেন স্মিথের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ০/২১ ও ০/৩২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একমাত্র ইনিংসে ৫ রান সংগ্রহের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন তিনি। তবে, ঋষভ পন্তের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৩ উইকেটে জয় পায় ও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট