|

ভিআরভি সিং

সেপ্টেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। ২০ বছর বয়সে মোহালিতে উত্তরপ্রদেশের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে।

২০০৬ থেকে ২০০৭ সময়কালে ভারতের পক্ষে পাঁচটিমাত্র টেস্ট ও দুইটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথমবারের মতো ভারত দলে নেয়া হলে তিনি শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন ও তাঁকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে ভারত দলের সদস্যরূপে ঠাঁই দেয়া হলেও খেলানো হয়নি। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আঘাত তাঁর নিত্য সঙ্গী ছিল। তাসত্ত্বেও, জাতীয় দলে খেলার আশা ত্যাগ করেননি। অভিষেক সিরিজেই তাঁকে আঘাতের কারণে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। অবশেষে, ১২ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৫ এপ্রিল, ২০০৬ তারিখে ইন্দোরে পরবর্তী ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পর আর তাঁকে সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে খেলতে দেখা যায়নি।

আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গীমায় পেস বোলিং করতেন। ২০০৬ সালে আবুধাবিতে ভারত ‘এ’ দলের সদস্যরূপে কিছু অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। ঐ বছরের মাঝামাঝি সময়ে দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে জাতীয় দলে যুক্ত করে। জুন, ২০০৬ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনের সুযোগ পান। ২ জুন, ২০০৬ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দারুণ ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে সকলকে বিমোহিত করেন। ২/৬১ ও ০/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ওয়াসিম জাফরের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীতে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এছাড়াও, ভারতীয় টেস্ট দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ গমন করেন। কিন্তু, ছন্দহীনতার কবলে পড়লে তাঁকে আর খেলানো হয়নি। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আবারও বেশ ভালোমানের খেলা প্রদর্শন করেন। জোহানেসবার্গে ভারতের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এগারো নম্বর অবস্থানে থেকে ব্যাট হাতে দারুণ খেলেন। তবে, এ সফর শেষে বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে দলে রাখা হয়নি।

২০০৭ সালে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গমনের সুযোগ পান। ১৮ মে, ২০০৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে খেললেও বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় ভারত দলকে। ৩/৪৮ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাশরাফি বিন মর্তুজা’র অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে চলে যায় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। ২০০৭-০৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু কোন খেলায় তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হয়নি। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

আঘাতের কারণে ২০০৮ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট থেকে দূরে সড়েছিলেন। এ পর্যায়ে অবশ্য কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে পুণরায় খেলার জগতে ফিরে আসেন। কিন্তু, খেলার শুরুতেই আঘাতের কবলে পড়লে দীর্ঘদিন খেলা থেকে দূরে ছিলেন।

প্রথমবারেই তাঁকে ভারতের উদীয়মান তরুণ ফাস্ট বোলার হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছিল। পেস সহযোগে ১৪০ ঊর্ধ্ব গতিবেগে ক্রমাগত বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। তবে, ভারতের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভের পর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

আইপিএলে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবের পক্ষে খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে আঘাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে খেলতে পারেননি। কয়েক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন ও ২০১২ সালে খেলার জগতে ফিরে আসেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট