২১ অক্টোবর, ১৯৭৯ তারিখে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
অনিল কুম্বলে’র সাথে দলে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে জায়গা পেতে তাঁকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে বেশ কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। অনেকের ন্যায় তিনিও কিশোর অবস্থায় ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০০৯-১০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে পাঞ্জাব দলের সদস্যরূপে হরিয়াণার বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ৪৫ রান তুললেও বল হাতে নিয়ে কোন সফলতার স্বাক্ষর রাখেননি। ২০০৫-০৬ মৌসুম পর্যন্ত দিল্লি দলের পক্ষে খেলেন। এরপর, হিমাচলপ্রদেশের সদস্য হন। ২০০৮ সালের আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, ঐ আসরের কোন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি।
২০০০ থেকে ২০০৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে তিনটিমাত্র টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে নিজ দেশে হিথ স্ট্রিকের নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে নাগপুরে অনুষ্ঠিত সফররত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টের শুরুতে চারটি মেইডেন ওভার করেন। পরবর্তী ১০ বল থেকে দুই উইকেট লাভ করেন। সফরকারীদের সংগ্রহ ১৪৫ থাকা অবস্থায় তিনি বোলিং করার সুযোগ পান। বেশ কয়েকবার ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বল প্রেরণ করেন। প্রথম ইনিংসে দুই উইকেট পান ও যথেষ্ট সমীহের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চার উইকেট লাভ করেন। ভারতের সংগৃহীত ১৬ উইকেটের ৬টি তিনি লাভ করেছিলেন। দূর্ভাগ্যজনকভাবে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ঐ টেস্টে ৫৫ ও ২৩২ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়ে খেলাটিকে রক্ষা করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা সিরিজ জয় করে।
পরবর্তী শীতে ব্যাঙ্গালোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩/৫৪ পেয়েছিলেন। ২০০২ সালে সৌরভ গাঙ্গুলী’র অধিনায়কত্বে ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ এপ্রিল, ২০০২ তারিখে জর্জটাউনের বোর্দায় সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১/৮০ লাভ করেন। একমাত্র ইনিংস থেকে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫০১ রান তুলেছিল। দলের সংগ্রহ ২৭৫/৭ থাকা অবস্থায় রাহুল দ্রাবিড়ের সাথে ১২০ রানের জুটি গড়েন। ৩৯৫/৭ সংগ্রহ থাকাকালে বৃষ্টির কারণে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষিত হলে ১২০ বল মোকাবেলা করে তিনি ৩৯ রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন। পরবর্তীতে, এটি তাঁর নিজস্ব তৃতীয় ও সর্বশেষ টেস্ট ছিল।
এরপর আর তাঁকে কোন টেস্টে খেলানো হয়নি। অংশগ্রহণকৃত পাঁচটি ওডিআই থেকে ৩ উইকেট পান। তবে, ওভারপ্রতি ৪.১৮ গড়ে রান খরচ করেছিলেন। বিজয়াবাদায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৩১৫ রান তুললেও তাঁর বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ১০-০-৩২-০।
স্পিনারদের সরব উপস্থিতির কারণে জাতীয় দলে তেমন খেলার সুযোগ পাননি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাঁর দ্বার রূদ্ধ হয়ে পড়ে। অফ-স্পিনার হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসহ ঘরোয়া আসরে দারুণ খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২০১৬ সালে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য হন।
