|

লেসলি হিল্টন

২৯ মার্চ, ১৯০৫ তারিখে জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

নিজের সেরা দিনগুলোয় প্রকৃতই দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলিং করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত হয়েছিল।

১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। টেস্টগুলো থেকে ২৬.১২ গড়ে ১৬ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর. ই. এস. ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৮ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। সিরিল ক্রিস্টিয়ানি, জর্জ ক্যারিও ও রল্ফ গ্র্যান্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ১৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১৫ রান সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি, বল হাতে নিয়ে ৩/৮ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৪ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

তবে, বাদ-বাকী তিন টেস্ট থেকে দুইটিতে জয় পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে দারুণ বোলিং করেছিলেন। চার টেস্ট থেকে ১৯.৩০ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়ে জ্যাকি গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সিরিজ বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।

১৯৩৯ সালে রল্ফ গ্র্যান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এ পর্যায়ে নিজের সেরা সময় ফেলে এসেছিলেন। প্রথম দুই টেস্ট খেলার সুযোগ পান। সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে সর্বশেষ ওভাল টেস্ট থেকে বাদ পড়েন।

২৪ জুন, ১৯৩৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৯৮ ও ১/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ২* ও ১৩ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২২ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১৫ ও ০/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

একই বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৫.৬২ গড়ে ১২০ উইকেট দখল করেছিলেন।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ফোরম্যান হিসেবে সাধারণ জীবনযাপন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলার তিন বছর পর ১৯৪২ সালে জ্যামাইকার জনৈক পুলিশ ইন্সপেক্টরের কন্যা লরিন রোজ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। পাঁচ বছর পর তাঁদের পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। পেশায় পোশাক নির্মাতা লরিন নিয়মিতভাবে নিউইয়র্ক গমন করতেন। এক পর্যায়ে ব্রুকলিন অ্যাভিনিউ’র রয় ফ্রান্সিসের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৪ সালে তিনি অজ্ঞাতনামা চিঠি পান ও লরিন তা অস্বীকার করেন। দূর্ভাগ্যবশতঃ তিনি কয়েকটি চিঠি পান। এক রাতে কথা কাটাকাটি হয়। সমশ্রেণীর নন। তিনি কখনো সুখী নন ও তাঁকে দেখে অসুস্থ হবার কথা জানান। উত্তেজিত অবস্থায় জানালার ধারে রাখা বন্দুক দিয়ে লরিনের দেহে গুলি করেন।

ভিভিয়ান ব্ল্যাক ও নোয়েল নেদারসোলকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করেন। তবে, বিচারকমণ্ডলী তাঁকে দোষীসাব্যস্ত করে। ২০ অক্টোবর, ১৯৫৪ তারিখে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। ১৭ মে, ১৯৫৫ তারিখে জ্যামাইকার স্পেনিশ টাউন এলাকায় ৫০ বছর ৪৯ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। স্ত্রীকে হত্যা করার কারণে তাঁকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়। একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে এ ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে। ঐ দিন বার্বাডোসের কেনসিংটন ওভালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সিরিজের চতুর্থ টেস্টের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জন হল্ট স্বল্প রানে বিদেয় নেন ও স্লিপ অঞ্চলে কয়েকবার ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি। কয়েকজন দর্শক ‘হ্যাং হল্ট, সেভ হিল্টন’ বাক্যে লেখা ব্যানার উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট