১৯ এপ্রিল, ১৯৪৪ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে এগিয়ে আসতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
প্রাণবন্তঃ ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং বোলার হিসেবে সেলিম আলতাফের খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭৮ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। এ পর্যায়ে ৪৬ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে হানিফ মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ইংল্যান্ড সফর করেন। ২৭ জুলাই, ১৯৬৭ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ওয়াসিম বারি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ সফরে দলের অন্যতম দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
কিন্তু, প্রথম টেস্টে মাংসপেশীতে টান পড়ে তাঁর ও খেলায় ব্যাঘাত সৃষ্টি ঘটে। এছাড়াও, নিচেরসারিতে বেশ দর্শনীয় ব্যাটিং করতে পারতেন। মারকুটে ব্যাটিং করে টেস্টে একটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন।
১৯৬৯-৭০ মৌসুমে নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলেন। ৩০ অক্টোবর, ১৯৬৯ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৩/৭৪। খেলায় তিনি ৩/৩৩ ও ০/১২ লাভ করেন। এছাড়াও, ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইন্তিখাব আলমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২২ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ১১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৫৮ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে নিজ দেশে বিষেন বেদী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১ নভেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৩৪ ও ০/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, জহির আব্বাসের দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিক দল ৮ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। টেস্ট দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের শুরুতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্রিকেট পরিচালক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ২০১১ সালের ক্রিকেটে বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন।
