১৬ অক্টোবর, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করে থাকেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতা নিয়ে অল-রাউন্ডার হিসেবে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৭ সাল থেকে ইউনুস খান ও মোহাম্মদ ইউসুফবিহীন মাঝারিসারির শূন্যতা পূরণে সর্বাপেক্ষা প্রতিশ্রুতিশীল ও আলোচিত খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে দেখা হতো। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেকে দেখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। দর্শনীয় ব্যাটিং ও খেলার ধরনের চেয়ে সঞ্চালন ও দক্ষতা প্রদর্শনে সাফল্য পান। তবে, খেলায় কার্যকরী ভাব আনয়ণে যৎকিঞ্চিৎ সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটেই তাঁকে ভবিষ্যতের তারকা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা আনা হয়েছিল। তাঁর পিতা শুধুই বিনোদনের উদ্দেশ্যে ক্রিকেট খেলতে দেখতে চাইতেন। ১২ বছর বয়সে খেলতে শুরু করেন। পরবর্তীতে, অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। রাওয়ালপিন্ডির কিশোর দলে খেলাকালীন সাবিহ আজহার ও পরবর্তীতে, পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ মনসুর রানা’র নজরে ছিলেন।
৬ ফুট (১.৮৩ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ২০০৭ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ফেডারেল এরিয়াজ, পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পোর্ট কাসিম অথরিটি ও রাওয়ালপিন্ডির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফেডারেল এরিয়াজ লিওপার্ডস, ইসলামাবাদ ইউনাইটেড, পেশাওয়ার জালমি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন।
১৩ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত খেলায় রাওয়ালপিন্ডির সদস্যরূপে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ধৈর্য্যশক্তির পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষীয় বোলিং আক্রমণ মোকাবেলান্তে ৮৯ রান তুলেন। ঐ খেলায় সবমিলিয়ে ১৪৫ রান তুলেছিলেন। ক্রমাগত সাফল্য লাভের প্রেক্ষিতে অবশেষে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে, পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে মাত্র ৮৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। কিন্তু, ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ঠিকই ধারাবাহিক ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের সচেষ্ট ছিলেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি চমৎকার ইনিংস খেলার সুবাদে পাকিস্তান ‘এ’ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান।
২০১০ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১০ সালের এশিয়া কাপ খেলার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের ওডিআই দলে যুক্ত করা হয়। ১৫ জুন, ২০১০ তারিখে ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ খেলায় ২৫ বল মোকাবেলান্তে সাত রান তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
পরের মাসে লন্ডনের লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে মুখোমুখি হন। ২০১০ সালে শহীদ আফ্রিদি’র অধিনায়কত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে ইংল্যান্ড সফরে যান। ১৩ জুলাই, ২০১০ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আজহার আলী’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় সর্বমোট ৩৪ রান করেছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৩৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, সালমান বাটের অসামান্য ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়া ১৫০ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১০ সালে সালমান বাটের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড সফরে যান। ৬ আগস্ট, ২০১০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৩ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্রায়েম সোয়ানের অসামান্য বোলিংয়ে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেয়ে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অনেক সাবেক পাকিস্তানী তারকার কাছ থেকে সেরা উদীয়মান ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। খুব কমই নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছিলেন ও এক পর্যায়ে ধারাবাহিকতার অভাবে দল থেকে বাদ পড়েন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে যেতে বাধ্য হন। ২০১২-১৩ মৌসুমের প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। তন্মধ্যে, হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের বিপক্ষে ২৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে চমৎকার খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ পুণরায় তাঁকে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেন। জুলাই, ২০১৩ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। দূর্দান্ত খেলেছিলেন। ৪১ বলে ৪৭ রান তুলতে পেরেছিলেন। টি২০আই অভিষেকে যে-কোন পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করেছিল।
