২২ জুলাই, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মহারাষ্ট্র ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট অভিষেকে তাৎক্ষণিক ঝড় তুলেন। ৯/৩৫ ও ৪/৩৬ নিয়ে প্রায় একাকী সৌরাষ্ট্র দলকে গুটিয়ে দিয়েছিলেন। অদ্যাবধি ভারতীয় ক্রিকেটে প্রথম আবির্ভাবেই ইনিংসে সেরা বোলিংসহ খেলায় সেরা বোলিং সাফল্যে নিজেকে সকলের চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে হ্যাট্রিক লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিলেন তিনি।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে অভিষেকের পর থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত খেলেছেন। মিডিয়াম-পেসার হিসেবে বলকে উভয়দিক দিয়েই সুইং করাতে পারতেন। ৬৪ খেলা থেকে ২৮ গড়ে ১৭৫ উইকেট দখল করেন। রঞ্জী ট্রফিতে মহারাষ্ট্র ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ৩৯ খেলা থেকে ২৩ গড়ে ১২৩ উইকেট পেয়েছিলেন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণেও নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬ শতক সহযোগে ছয় হাজারের অধিক রান সংগ্রহ করেছেন। নিজের সময়কালের ভারতীয় ক্রিকেটে বিশেষতঃ ঘরোয়া ক্রিকেটে মহারাষ্ট্রের উত্থানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে ভারতের পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে জেরি আলেকজান্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৫৮ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এ পর্যায়ে একটিমাত্র উইকেট নিয়ে সুভাষ গুপ্তে’র ইনিংসে ১০ উইকেট লাভে বাঁধার প্রাচীর গড়েন। সফরকারীরা ২০৩ রানে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

বোলিংয়ে সাফল্য পেলেও ১৯৫৯ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে খেলানো হয়নি।

বোম্বে টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্বরূপ ধারনে অগ্রসর হন। নিষ্প্রাণ পিচে ৪/৭৬ পেয়েছিলেন। ঐ মৌসুমে কলকাতায় তিন উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের জয়ে বিরাট ভূমিকা রাখেন। এরপর তাঁকে টেস্ট দলের বাইরে রাখা হয়।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান ও বিদেশের মাটিতে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৩ এপ্রিল, ১৯৬২ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে ৪/৭২ ও ২/৮১ লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, রোহন কানহাইকে দুইবার বিদেয় করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসেই শূন্য রান করে মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। ১২৩ রানে জয় পেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ৫-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এরপর, দুই বছরের জন্যে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। দুই টেস্টে অংশ নেয়ার পর তাঁকে বাদ দেয়া হয়।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে নিজ দেশে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২ অক্টোবর, ১৯৬৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ০/৩০ ও ২/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৩৯ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

কিছুটা রহস্যজনক কারণে খুব কমই বোলিং করার সুযোগ পেতেন। তাঁর সময়কালে ভারত দল কোন খেলায় জয়লাভ করতে পারেনি। তবে, প্রতি খেলায় গড়ে ৩০ ওভার বোলিং করেছেন। অংশগ্রহণকৃত ৭ টেস্ট থেকে ৩৪ গড়ে ১৯ উইকেট দখল করেছেন। তন্মধ্যে, নিজ দেশেই খেলেছেন ৬ টেস্ট।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে ঠিকই সরব ছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে ১৯ গড়ে ২১ উইকেট পেয়েছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট কোচ ও পরামর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, মহারাষ্ট্রের ক্রিকেটে প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সেন্ট্রাল রেলওয়েতে ফিটার হিসেবে চাকুরী করতেন। তবে, শেষ বয়সে তাঁকে আর্থিক সঙ্কটে ভুগতে হয়েছিল। এ পর্যায়ে বিসিসিআই তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসে। ১৯৬১ সালে পুনার ভয়াবহ বন্যায় তাঁর গৃহ ধ্বংস হলে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করে। এরপর, ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে ভারত সফরে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নাগপুরের খেলায় তাঁর সহায়তাকল্পে আয়োজন করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তাঁর সন্তান সুভাষ রঞ্জনে মহারাষ্ট্রের পক্ষে খেলেছে। ২২ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে ৭৪ বছর ১৫৩ দিন বয়সে পুনেভিত্তিক রুবি হল ক্লিনিকে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট