|

বিল লকউড

২৫ মার্চ, ১৮৬৮ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ওল্ড র‍্যাডফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

খ্যাতনামা ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৮৮৬ থেকে ১৯০৪ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। নটিংহ্যামশায়ারের পক্ষে দীর্ঘদিন বর্ণাঢ্যময় খেলা উপহার দিয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দলের ১৮৯ নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন। অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখরিত খেলোয়াড়ী জীবন পাড় করলেও তেমন দর্শনীয় ছিল না। ফলশ্রুতিতে, মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও মাঝে-মধ্যে বোলিং কর্মে নিয়োজিত অবস্থায় ১৮৮৭ সালে নিজ কাউন্টি ত্যাগ করে দুই বছর সারেতে নিবাসকালীন যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।

১৮৯২ সাল থেকে পরবর্তী তিন মৌসুম স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। প্রত্যেক মৌসুমেই দেড় শতাধিক উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে বেশ সফল হয়েছিলেন। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ইংরেজ দলে ঠাঁই পান।

১৮৯৩ থেকে ১৯০২ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে বারো টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৯৩ সালে নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। আর্থার মোল্ড, টেড ওয়েনরাইট ও স্ট্যানলি জ্যাকসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৬/১০১ লাভ করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন ও লর্ডস অনার্স বোর্ডে ঠাঁই করে নেন। তবে, বৃষ্টির কারণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষসারিতে ভাঙ্গন ঘটান ও ২৬৯ রানে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ২২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ওভালের পরবর্তী টেস্টের উভয় ইনিংসে চারটি করে উইকেট পান।

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ড্রিউয়ে স্টডার্টের নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। তবে, এ পর্যায়ে বেশ দূর্দশার কবলে পড়েন। পাঁচ টেস্ট থেকে মাত্র ৮৯ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়েছিলেন ও ৬৭.৮০ গড়ে মাত্র পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, তিনি কাঁধে চোট পান।

১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্ট শুরুর পূর্বে সোডা ওয়াটার অতিরিক্ত গ্রহণ করায় ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। ইনিংস ও ১৪৭ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আনতে সমর্থ হয়।

১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ১৮৯৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অজি দলের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৭/৭১ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

পারিবারিক দূর্দশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৮৯৮ থেকে ১৯০৩ সময়কালে ৬৭৪ উইকেট দখল করেন। একই সময়ে ১১ শতক সহযোগে ৫৯১৬ রানের সন্ধান পান। টেস্ট দলে ফিরে আসেন। ১৯০২ সালে সেরা সিরিজ খেলেন। এজবাস্টনে অপরাজিত ৫২ রান সংগ্রহসহ ৬/৪৮ পান। ওল্ড ট্রাফোর্ডে ৫/২৮ লাভ করেন।

১৯০২ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯০২ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের ছাঁপ রাখেন। খ্যাতনামা ঐ টেস্টে তাঁর দল অজিদের কাছে নাটকীয়ভাবে মাত্র ৩ রানে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। খেলায় তিনি ৬/৪৮ ও ৫/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

একই সফরের ১১ আগস্ট, ১৯০২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৪৫ নিয়ে দলকে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/৮৫ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১ উইকেটে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ১৮.৩৪ গড়ে ১৩৭৬ উইকেট দখল করেন। বোলিংকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও, ২১.৯০ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এরপর, নটিংহ্যামশায়ারে ফিরে যান।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। স্ত্রীর প্রয়াণে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। সন্তানদের একজনও মারা যায়। দল থেকে বাদ পড়েন ও অত্যধিক মদ্যপান করতে থাকেন। সারে কর্তৃপক্ষের সহায়তায় রক্ষা পান ও ছন্দ ফিরে পান। ২৬ এপ্রিল, ১৯৩২ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারের ওল্ড র‍্যাডফোর্ড এলাকায় নিজ গৃহে ৬৪ বছর ৩২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | | | |

    লালা অমরনাথ

    ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কপুর্থালা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, উইকেট-রক্ষকেরও দায়িত্ব পালন করতেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাঞ্জাবের কপুর্থালায় সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও লাহোরে শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। সন্দেহাতীতভাবে…

  • |

    শাদাব কবির

    ১২ নভেম্বর, ১৯৭৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হতেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ২০১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান কাস্টমস, পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং…

  • |

    ধ্রুব জুরেল

    ২১ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে উত্তরপ্রদেশের আগ্রা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। উইকেট-রক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে টেস্ট ও টি২০আই ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০২১-২২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশ ও বহিঃভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালস ও ভারত ‘এ’ অনূর্ধ্ব-১৯…

  • | |

    জিম পার্কস, ১৯৩১

    ২১ অক্টোবর, ১৯৩১ তারিখে সাসেক্সের হেওয়ার্ডস হিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং ও লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাঁচ বছর বয়সে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আসক্তি গড়ে উঠে। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারে সর্বাপেক্ষা সদস্যের মর্যাদা পান। তাঁর পরিবারের সাথে সাসেক্সের সম্পর্ক ১৯২৪…

  • | | |

    ইমরান খান

    ৫ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মূখ্যতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী। পাকিস্তানী ক্রিকেটে প্রধান পটপরিবর্তনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হৃদপিণ্ডতুল্য ভূমিকা…

  • | | | | |

    আব্দুল কারদার

    ১৭ জানুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লাহোরের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত ও পাকিস্তান – উভয় দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুসমতুল্য অন্যতম বামহাতি স্পিনার হিসেবে বিবেচিত…