|

ইকরাম আলীখিল

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০০০ তারিখে কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে শীর্ষসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

খর্বাকায় গড়নের অধিকারী তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শাপিজা ক্রিকেট লীগে বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্সের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। উইকেটের পিছনে তেমন ভূমিকা না রাখলেও সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। খুবই স্বল্পসংখ্যক ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে দুইবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার লক্ষ্যে আফগানিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এছাড়াও, ২০১৭ সালের এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের চূড়ান্ত খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০৭ রানের অপরাজিত শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে আফগানিস্তান দল এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ কাপের প্রথম শিরোপা বিজয়ে সমর্থ হয়। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে বন্দ-ই-আমির ড্রাগন্স, লাগম্যান প্রভিন্স, লোগার প্রভিন্স ও স্পিন গড় রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, স্পিন গড় টাইগার্সের পক্ষে খেলেছেন।

১ মার্চ, ২০১৮ তারিখে আহমদ শাহ আবদালী ফোর-ডে টুর্নামেন্টে স্পিন গড় রিজিওনের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়। আমানুল্লায় অনুষ্ঠিত কাবুল রিজিওনের বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি ৩৯ ও ৩৩ রান তুলের দলের ২৯ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১০ জুলাই, ২০১৮ তারিখে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওন্যাল ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে একই দলের পক্ষে লিস্ট-এ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। খোস্তে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় মিস আইনাক রিজিওনের বিপক্ষে তিনি সর্বমোট ১৩ রান তুলেন। তাসত্ত্বেও ঐ খেলায় তাঁর দল ২৪ রানে জয়লাভ করে।

সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতার ২০১৮-১৯ মৌসুমের উদ্বোধনী আসরে বাল্খ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল শিরোপা জয় করে। ৬ ইনিংস থেকে ২৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে এসিসি এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সদস্য হন।

১১ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে শারজায় কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি২০ খেলায় অংশ নেন। নয়ের অধিক রানের সন্ধান পাননি ও উইকেটের পিছনে অবস্থান করে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। ঐ খেলায় কেনিয়া দল ৩৪ রানে জয় পায়। মোহাম্মদ শাহজাদের বিতর্কিতভাবে দলের বাইরে অবস্থানের কারণে আকস্মিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পান। এছাড়াও, ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়ও তাঁকে জরুরীভিত্তিতে দলে নেয়া হয়। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেও ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিক স্বাক্ষর রাখেন। লীগের শেষ খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮৬ রানের ধ্রুপদী ইনিংস খেলেন।

২০১৯ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে ভারতের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ও ওডিআই খেলার উদ্দেশ্যে তাঁকে যুক্ত করা হয়। ২ মার্চ, ২০১৯ তারিখে দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ঐ খেলায় ৫ রান সংগ্রহ করতে সমর্থ হন ও খেলাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় শেষ হয়। এরপর, একই সফরের ১৫ মার্চ, ২০১৯ তারিখে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৭ রান সংগ্রহ করলেও তাঁর দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করে। উইকেটের পিছনে অবস্থান করে ঐ খেলায় ৫ ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। ৬ জুন, ২০১৯ তারিখে বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে সামনে রেখে আফগানিস্তান দলে যুক্ত হন। হাঁটুর আঘাতের কারণে মোহাম্মদ শাহজাদের স্থলাভিষিক্ত হন।

২০২৩-২৪ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র অধিনায়কত্বে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। খেলায় তিনি ২১ ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, গ্লাভস হাতে নিয়ে একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

Similar Posts

  • | |

    সাঈদ আহমেদ

    ১ অক্টোবর, ১৯৩৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন। উইকেটের চতুর্পার্শ্বে স্ট্রোকের ফুলঝুড়ি ছোটাতেন। তবে, ড্রাইভের মাঝেই তিনি তাঁর নান্দনিকতা ও শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেন। এছাড়াও, তিনি অফ-স্পিন বোলিং…

  • |

    কেন জেমস

    ১২ মার্চ, ১৯০৪ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে প্রকৃত মানসম্পন্ন প্রতিযোগীধর্মী উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের সুনাম কুড়ান। তবে, নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন বেশ তথৈবাচৈ ছিল। ১৯২৩-২৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    ফ্রেডরিক কুক

    ১৮৭০ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজের জাভায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। ১৮৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৮৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৮৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে…

  • | |

    গ্রায়েম হোল

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের কনকর্ড ওয়েস্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৩ বছর বয়সে মোসম্যানের পক্ষে ক্রিকেট খেলতেন। এরপর, নর্থ সিডনি বয়েজ হাইয়ে অধ্যয়ন…

  • | | |

    রয় ডায়াস

    ১৮ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, রেফারি ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৯ থেকে…

  • |

    পিটার কার্লস্টেইন

    ২৮ অক্টোবর, ১৯৩৮ তারিখে ট্রান্সভালের ক্লার্কসডর্প এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের আগে-পিছে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া, নাটাল, অরেঞ্জ…