|

আফসার জাজাই

১০ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে কাবুলে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটান। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর প্রতিভা খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতেই চিহ্নিত করা হয়েছিল। এমএস ধোনিকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। তবে, ব্যাট হাতে তেমন সফলতা পাননি। এ কারণে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু, উত্তরোত্তর সাফল্যের কারণে এক পর্যায়ে জাতীয় দলে স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করতে সমর্থ হন।

২০১০ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে আফগানিস্তান দলে অন্তর্ভুক্তিকালীন বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সর্বদাই বয়সভিত্তিক খেলায় অংশ নিয়েছেন। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল চ্যালেঞ্জ কাপে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেছেন। ফলশ্রুতিতে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। ২০০৯ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ছয় খেলায় নয়টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলের সদস্য ছিলেন। হায়দ্রাবাদ ও করাচীর বিপক্ষে ঐ খেলায় দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান। ১৮.৪ ওভারেই খেলাটি শেষ হয়ে যায় ও আফগানিস্তান দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করে।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নিজস্ব দ্বিতীয় যুব বিশ্বকাপে অংশ নেন। এর পরপরই আফগানিস্তানের টি২০আই দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। ১১ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে শারজায় কেনিয়ার বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক ঘটে। নয়ের অধিক রান তুলতে পারেননি। উইকেটের পিছনে থেকে একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ঐ খেলায় কেনিয়া দল ৩৪ রানে জয় তুলে নেয়। দৃশ্যতঃ তখন থেকেই ওডিআই ও টেস্ট দলের সদস্য হন।

২০১২ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে বন্দ-ই-আমির রিজিওন ও মিস আইনাক নাইটসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১২ সালে শারজায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে পূর্ণাঙ্গ আফগান দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ২ এপ্রিল, ২০১২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত খেলায় পরিপক্কতা নিয়ে আসতে সচেষ্ট হন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন ও ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর এ সংগ্রহের কারণে দল তিন উইকেটে জয় পেয়েছিল। এক পর্যায়ে তার দল ১১১/৬ রান তুলে বেশ ক্ষাণিকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ছিটকে পড়েছিল। বড়দের দলে খেলার জন্যে অপেক্ষার প্রহর গুণেন।

২০১৪ সালের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে চার-খেলা নিয়ে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই খেলেন। ২৮ নভেম্বর, ২০১৪ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক হয়। প্রথম খেলায় ১০৯ বলে ৬০ রান সংগ্রহ করাসহ একটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখেন। তবে, ঐ খেলায় তাঁর দল স্বাগতিক দলের কাছে ৫ উইকেটে পরাজিত হয়। পরের খেলায়ও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। নিজস্ব দ্বিতীয় ওডিআইয়ে ৮৩ বলে ৫১ রান তুলেন। ৩১ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। এ সিরিজে সব মিলিয়ে ছয়টি ডিসমিসাল ঘটান। এরফলে, মোহাম্মদ শাহজাদকে পাশ কাটিয়ে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের প্রধান উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ঠাঁই পান। তবে, বিশ্বকাপের পর খেলা ভাটা পড়তে শুরু করে ও জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে বেশ হিমশিম খেতে হয়।

২০১৩ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৮.১১ গড়ে রান তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টের মাধ্যমে দলে ফিরে আসেন। এরফলে, টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলের প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জন করেন। ১৪ জুন, ২০১৮ তারিখে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে ৬ ও ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে দুইটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করতে সমর্থ হন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ২৬২ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়।

২০১৮-১৯ মৌসুমের আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগকে ঘিরে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল কাবুল জওয়ানানের পক্ষে খেলেন। তবে, তেমন সুবিধে করতে পারেননি। একটিমাত্র খেলায় অংশ নিয়েছিলেন ও ১৩ বল মোকাবেলায় ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

২০২৩ সালে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র অধিনায়কত্বে একমাত্র টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফর করেন। ১৪ জুন, ২০২৩ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ৫৪৬ রানের সুবিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ৩৬ ও ৬ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, গ্লাভস হাতে নিয়ে তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের অন্যতম সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ১১৩ রান সংগ্রহসহ চারটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ১৬৯ বল মোকাবেলায় তাঁর এ শতকটি প্রথম ছিল। এ পর্যায়ে ৩২.৭০ গড়ে ৩২৭ রান সংগ্রহ করেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

২০২৫-২৬ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাজয়বরণ করে।

Similar Posts

  • | |

    গ্যারি উইলসন

    ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডানডোনাল্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিং করে থাকেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, আইরিশ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড ও কেভিন ও’ব্রায়ানের ন্যায় এমসিসি’র পরিচালনায় কাউন্টি ক্রিকেটে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার উদ্দেশ্যে ‘এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্স’…

  • |

    অ্যালান ল্যাম্ব

    ২০ জুন, ১৯৫৪ তারিখে কেপ প্রদেশের ল্যাঞ্জবানেগ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত বিখ্যাত ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘লেগা’ কিংবা ‘ল্যাম্বি’ ডাকনামে পরিচিত অ্যালান ল্যাম্ব ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ওয়েনবার্গ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৭২ থেকে…

  • |

    বিলাল আসিফ

    ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০১১ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে শিয়ালকোটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লাহোর কালান্দার্স, শিয়ালকোট রিজিওন ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন।…

  • | |

    রিচার্ড হ্যাডলি

    ৩ জুলাই, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চের সেন্ট অ্যালবান্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ক্রাইস্টচার্চ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে…

  • | |

    সৈয়দ আবিদ আলী

    ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দ্রাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। পাশাপাশি অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন ও নিচেরসারিতে ব্যস্ততার সাথে উইকেটের প্রান্ত বদলে অগ্রসর হতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পিঠ সোজা রেখে, খাড়া গোঁফ নিয়ে সুনিয়ন্ত্রিত…

  • | |

    হ্যারি ট্রট

    ৫ আগস্ট, ১৮৬৬ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কলিংউড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফিল্ডারদেরকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পাশাপাশি প্রয়োজনে পরিবর্তন ও বোলারদের বিশ্রামের বিষয়ে পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, খেলার গতিধারা পরিবর্তনে অনেকাংশেই এগুলো বিরাট ভূমিকা রাখে।…