|

ইব্রাহীম জাদরান

১২ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে খোস্তে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতে পারেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মারকুটে ব্যাটসম্যান ও স্ট্রোকমেকার্স হিসেবে আঁটোসাটো কৌশল গ্রহণপূর্বক ফুরফুরে মেজাজে খেলায় অগ্রসর হন। বৃহৎ আসরের ক্রিকেটে বেশ প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট হাতে ক্রিজ আঁকড়ে ধরে রাখার গুণাবলী রয়েছেন। ব্যাটিংয়ের ধরন বেশ সঠিকমানের, মানসিক দৃঢ়তা বিদ্যমান ও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। এছাড়াও, দক্ষ ফিল্ডিং করেন। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে মিস আইনাক রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফরচুন বরিশাল ও নানাগড়হর লিওপার্ডসের পক্ষে খেলেন।

চাচা নূর আলী জাদরানকে আদর্শ হিসেবে মানেন। তাঁর সহায়তা ভিন্ন খেলায় অগ্রসর হতে পারতেন না। নিজ দেশের শিশুদের সহায়তাকরণে ক্রীড়া কিংবা শিক্ষা যাই হোক না কেন এগিয়ে আসার স্বপ্ন দেখেন। বৃহৎ আসরের ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তাঁর বিশেষ গর্বিত মুহূর্ত। ক্রিকেটকে ভালোবাসেন ও খেলায় তাঁর অবদান রাখার অর্থ অনেকাংশে কেকে বরফ রাখার শামিল।

দুইটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডিসেম্বর, ২০১৭ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ঐ প্রতিযোগিতায় ১৮৬ রান তুলে আফগানিস্তানের সর্বাধিক রান সংগ্রাহক হন। ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তান দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ২৪০ রান তুলে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীতে পরিণত হন।

১১ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে গাজী আমানুল্লাহ খান রিজিওনাল ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে মিস আইনাক রিজিওনের সদস্যরূপে লিস্ট-এ ক্রিকেটে অভিষেক হয়। বন্দ-ই-আমির রিজিওনের বিপক্ষে ঐ খেলায় ৫৫ বল মোকাবেলায় ৩২ রান তুলেন। তবে, প্রতিপক্ষ দল ৫ উইকেটে জয় পায়। ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে কাবুলে শাপিজা ক্রিকেট লীগে মিস আইনাক নাইটসের পক্ষে টি২০ ক্রিকেটে প্রথম খেলেন। খেলায় তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে হয়নি ও দল ৬ রানে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়। ১ মার্চ, ২০১৮ তারিখে কুনারে অনুষ্ঠিত আহমদ শাহ আবদালী টুর্নামেন্টে বন্দ-ই-আমির রিজিওনের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। অ্যামো রিজিওনের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। ঐ খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়।

সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে নানগড়হর দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে এসিসি এমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান।

২০১৯ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। আগস্ট, ২০১৯ সালে রশীদ খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্ট খেলার জন্যে মনোনীত হন। ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজস্ব প্রথম খেলায় ২০৮ বল মোকাবেলান্তে ৮৭ রান তুলে দলের ২২৪ রানের বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন। বিজয়ের দিক থেকে এটি আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বিজয় ছিল ও তিনি অন্যতম কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েছিলেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ২১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। মোহাম্মদ শাহজাদের বিতর্কিতভাবে দলের বাইরে অবস্থানের কারণে ইনিংস উদ্বোধনের সুযোগ পেয়েছিলেন।

পরের মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে দলে ঠাঁই পান। ১১ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে লখনউয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। একই সফরের ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে একই দলের বিপক্ষে একই মাঠে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন।

২০২৩-২৪ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রভাত জয়সুরিয়া’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৪২  রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, বেন কারেনের অসাধারণ ১২১ রানের কল্যাণে খেলায় সফরকারীরা ইনিংস ও ৭৩ রানে পরাজয়বরণ করে।

Similar Posts

  • | |

    মার্ক রিচার্ডসন

    ১১ জুন, ১৯৭১ তারিখে হকস বে’র হ্যাস্টিংসে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অসম্ভব ধৈর্য্যশক্তির অধিকারী তিনি। অফ-স্ট্যাম্পের দিকে আসা বলগুলো ক্রমাগত ছেড়ে দিতেন। নিউজিল্যান্ডের শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশেষতঃ টেস্ট অঙ্গনে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের…

  • |

    গ্রেভিল স্টিভেন্স

    ৭ জানুয়ারি, ১৯০১ তারিখে লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী শৌখিন ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় দূর্দান্ত ফিল্ডার ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ স্কুলে অধ্যয়ন শেষে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন। ১৯২০ থেকে ১৯২৩ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রতিটিতেই ব্লু…

  • | | |

    গ্রেগ ক্যাম্পবেল

    ১০ মার্চ, ১৯৬৪ তারিখে তাসমানিয়ার লঞ্চেস্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর উত্থান পর্ব বেশ দর্শনীয় ছিল। তবে, আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবন স্বল্প স্থায়ী হয়ে পড়ে। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম থেকে ১৯৯১-৯২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | |

    ইয়ান মেকিফ

    ৬ জানুয়ারি, ১৯৩৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেনটোন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। মোরাডিয়ালক-চেলসী হাইয়ে ভর্তি হন। অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, ক্রিকেট ও ফুটবলে বিদ্যালয় দলে অংশ নিতেন। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ডনের সাথে মেনটোন সিসি’র সদস্যরূপে ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনে…

  • | |

    ডেভ হোয়াটমোর

    ১৬ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে সিলনের কলম্বোয় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। খুবই ছোটবেলা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। কার্যকর ব্যাটসম্যান ও অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। ১৯৭৫-৭৬ মৌসুম থেকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া…

  • | |

    কেভিন ও’ব্রায়ান

    ৪ মার্চ, ১৯৮৪ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংসহ ডানহাতে কার্যকর মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। আয়ারল্যান্ডের সর্বাপেক্ষা প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের অন্যতম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এমসিসি’র পরিচালনায় কাউন্টি ক্রিকেটে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার উদ্দেশ্যে উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ন্যায় তিনিও এমসিসি ইয়ং ক্রিকেটার্স থেকে প্রশিক্ষণ…