১৫ আগস্ট, ১৯৯১ তারিখে নানাগড়হর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করে থাকেন। আফগানিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
হার্শেল গিবসের একনিষ্ঠ ভক্ত। তবে, বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই নিউজিল্যান্ডীয় তারকা ক্রিকেটার ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র অনুরূপ। কুয়েতে অনুষ্ঠিত এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ কাপ এলিটের সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে তৎকালীন ব্যক্তিগত সেরা ৩/১৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আফগানিস্তানের সদস্যরূপে মনোনীত হয়েছিলেন। পাপুয়া নিউগিনি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে একটিমাত্র খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর, ২০১১-১৩ আইসিসি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে কানাডার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়।
২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর আফগান ক্রিকেটে বুস্ট রিজিওন ও স্পিন গড় রিজিওনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ঢাকা ডোমিনেটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০১৮ সালের আহমদ শাহ আবদালী ফোর-ডে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর মর্যাদা লাভ করেন। দশ খেলায় অংশ নিয়ে ৬৭ উইকেট দখল করেছিলেন। সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সালে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে কান্দাহার দলের সদস্য হন।
২০১২ সাল থেকে আফগানিস্তানের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। আইসিসির পূর্ণাঙ্গ টেস্টভুক্ত দেশের বিপক্ষে আফগানিস্তানের প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে শারজায় পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। দশ নম্বরে ব্যাটিং নেমে ছয় বল মোকাবেলা করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। আফগানিস্তানের ১৯৫ রানের জবাবে পাকিস্তানের ইনিংসে চার ওভারে ২২ রান খরচ করে উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন ও ঐ খেলায় ৭ উইকেটে পরাজিত হয় তার দল।
অক্টোবর, ২০১৩ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে ব্যক্তিগত সেরা ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেন। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩/১৯ পান ও প্রতিপক্ষকে ৯৩ রানে গুটিয়ে দিতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপ ও বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় খুব বেশী খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাননি। এছাড়াও, অংশগ্রহণকৃত খেলাগুলোয় সাধারণমানের খেলা উপহার দিয়েছিলেন।
মে, ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে খেলার জন্যে সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে, খেলার সুযোগ পাননি। নভেম্বর, ২০১৯ সালে আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আফগানিস্তানের একমাত্র টেস্টে খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়। রশীদ খানের অধিনায়কত্বে ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখে লখনউয়ে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নাসির জামালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আফগানিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। ৫/৭৪ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ৩৪ ও ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ঐ টেস্টে তাঁর দল ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করেছিল।
২০২৩ সালে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র অধিনায়কত্বে একমাত্র টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফর করেন। তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৪ জুন, ২০২৩ তারিখে ঢাকার মিরপুরে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে স্বাগতিক দল ৫৪৬ রানের সুবিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ১/৮৫ ও ১/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ গড়েন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন।
