১৯ অক্টোবর, ১৯৮৬ তারিখে নেগোম্বো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
‘সিরাসা’ ডাকনামে পরিচিতি পেয়েছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ডানহাতে পেস বোলিং করে থাকেন। সুইং বোলিংয়ের কারণে জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন। শ্রীলঙ্কা দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে রয়েছেন। তাঁর বোলিংয়ের ধরন অনেকাংশেই লাসিথ মালিঙ্গা’র অনুরূপ ছিল। দূর্ভাগ্যবশতঃ পেসার হিসেবে তিনি সতীর্থের সাথে তেমন তুলনায় আসতে পারেননি। বেশ দেরী করে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেছেন। ২০ বছর বয়সের পূর্বে বোলিং কর্মে অগ্রসর হননি। তবে, দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করেছিলেন ও প্রতিশ্রুতিশীলতা তুলে ধরতে যথেষ্ট ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। তিন বছরের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে ঠাঁই পান। কাতানাভিত্তিক বিদ্যালোক মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন।
বলে নিখুঁততা আনয়ণ করেছেন। পর্যাপ্ত পেস নিয়ে বলকে উভয় দিকেই ফেলতে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। দীর্ঘ দূরত্ব নিয়ে বোলিং করায় তার বোলিংয়ে বিরূপ প্রভাব ফেলে। বোলিং কোচ চামিন্ডা ভাসের সহায়তায় খেলোয়াড়ী জীবনের নতুন সূচনা করেন। বোলিংয়ে উত্তরণ ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রেখে বিদেশের মাটিতে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ পরিচালনা করে থাকেন। একাধারে পাঁচ ওভারের বেশী বোলিং করতে তাঁকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। তাসত্ত্বেও, জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন। তবে, তাঁর ব্যাটিং দলে অন্তর্ভুক্তিতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। বিখ্যাত খেলোয়াড় গ্লেন ম্যাকগ্রা’র ন্যায় তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ৩.৭৫।
২০০৭-০৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ, ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ক্যান্ডি তুস্কার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে খেলেছেন। শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লীগে চারটি পৃথক দলে খেলেছেন ও নিশ্চিতরূপেই দেশে যথেষ্ট অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করেছেন। ২০০৭-০৮ মৌসুমে বার্গার রিক্রিয়েশন ক্লাবের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। শ্রীলঙ্কার অন্যতম প্রাচীন ক্লাব ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের সদস্য ছিলেন। বাসনাহিরা নর্থ ক্রিকেট দলের পক্ষে খেলেছেন। শ্রীলঙ্কান ইন্টার-প্রভিন্সিয়াল টুর্নামেন্টে রুহুনা ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
২০০৭ সালে পেস বোলিং প্রতিযোগিতায় চিহ্নিত হন। সফটবল বিষয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে তাঁকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট একাডেমিতে যুক্ত করা হয়। তাঁর অপ্রচলিত বোলিং ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমনের সুযোগ পান। উভয় দলের মধ্যে দ্রুততম বোলার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান। কিন্তু, খেলায় তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, এক মাস পরই জাতীয় দলের সদস্যরূপে শক্তিধর ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে রাখা হয়।
২০১১ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১-১২ মৌসুমে তিলকরত্নে দিলশানের নেতৃত্বাধীন দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৮ অক্টোবর, ২০১১ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, খেলায় কোন উইকেট লাভে সক্ষম হননি। ১১০ রান খরচ করেছিলেন। ০/১০৭ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এক পর্যায়ে ৩৪৫ গড়ে একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। ২০১১ সালে ডার্বিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪/২৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে সাময়িক ঝড় তুলেন। দিলহারা ফার্নান্দোকে সাথে নিয়ে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অপ্রত্যাশিত বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
৩১ জুলাই, ২০১২ তারিখে কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নিয়ে তিন উইকেট পেয়েছেন ও রোহিত শর্মাকে দুইবার বিদেয় করেছিলেন। ৫ জুলাই, ২০১৬ তারিখে রোজ বোল স্টেডিয়ামে ইংলিশ লায়ন্সের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।
২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৪/১২৩। খেলায় তিনি ৪/৬৩ ও ৩/১১৭ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কেন উইলিয়ামসনের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীতে সফরকারীরা ১৯৩ রানে পরাজয়বরণ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০১৭ সালে নিজ দেশে বিরাট কোহলি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ২০১৭ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৬/১৩২ ও ০/৬৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শিখর ধবনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৩০৪ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৬ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে উভয় ইনিংসেই শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২১ ও ১/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তবে, ডিমুথ করুণারত্নে’র দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে তাঁর দল ৬৮ রানে জয় পায় ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। নীলাক্ষী চম্পিকা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
