২৭ জুন, ১৯৮৫ তারিখে বালাপিতিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার। অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নিখুঁতমানের লেগ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শী। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন।
উপুল চন্দনা’র পর শ্রীলঙ্কার অন্যতম সেরা লেগ-স্পিনার হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়। শূন্যে দ্রুততার সাথে বল ফেলেন ও ভালোমানের গুগলি বোলিং করতে জানেন। তবে, উপযুক্ত পিচেই কেবল সফলতার স্বাক্ষর রেখে থাকেন। নিচেরসারিতে মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে থাকেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে চমৎকার খেলে জাতীয় দলে জায়গা পান। ছয় মাস বিরতি দিয়ে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুণরায় শ্রীলঙ্কার একদিনের আন্তর্জাতিক দলে ফিরে আসেন।
বালাপিতিয়াভিত্তিক রিওয়াতা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, বাদুলা ডিস্ট্রিক্ট, কলম্বো, খুলনা টাইটান্স, বরিশাল বুলস, ঢাকা ডায়নামাইটস, দূরন্ত রাজশাহী, গল, হাম্বানতোতা ট্রুপার্স, কন্দুরাতা, ক্যান্ডি তুস্কার্স, লাহোর কালান্দার্স, ল্যান্টাউ গ্যালাক্সি রাইডার্স, পাকতিয়া প্যান্থার্স, রুহুনা রেডস, সাউদার্ন এক্সপ্রেস, শ্রীলঙ্কা আর্মি, ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স, ইউভা নেক্সটের পক্ষে খেলেছেন।
২১ বছর বয়সে ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কা আর্মি দলে যোগ দেন। পানাগোদার পিচে বলকে যথেষ্ট বাঁক খাওয়ানোয় দক্ষতা অর্জন করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অজন্তা মেন্ডিসকে সাথে নিয়ে স্পিনবান্ধব পিচে নিয়মিতভাবে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। লঙ্কান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে সীমিত-ওভারের খেলায় প্রথম অংশ নেন। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩/২৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে সকলের নজর কাড়েন। পরবর্তী পাঁচ বছরে ৪৫ খেলা থেকে ১৮.৩৮ গড়ে ৭৩ উইকেট দখল করেছিলেন। ২০১১ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। সেখানে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে চমৎকার সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তন্মধ্যে, ২৩ রান খরচায় ছয়-উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। অতঃপর, বেশ বয়স নিয়েই জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হন।
২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট, ৪০টি ওডিআই ও ২০টি টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২০ আগস্ট, ২০১১ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মাইকেল হাসি’র অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তা প্রদর্শন সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০ আগস্ট, ২০১১ তারিখে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ দুইটি ওডিআই খেলার উদ্দেশ্যে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। অভিষেক ওডিআইয়ে ৩/৩২ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। একই দলের বিপক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অংশ নিয়ে কোন উইকেট পাননি ও মাত্র ৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরপর থেকে ওডিআই দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন।
অভিষেকের পর থেকে তেমন ভালো খেলা উপহার দিতে পারেননি। ক্রমাগত ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতার পাশাপাশি বোলিংয়ে অত্যধিক রান খরচ করার খেসারত গুণতে হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। তাসত্ত্বেও, ২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেন। এছাড়াও, ২০১৫ সালের আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
২০১৬ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলার উদ্দেশ্যে পুণরায় তাঁকে শ্রীলঙ্কা দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৮ জুন, ২০১৬ তারিখে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন। মাত্র ৪৫ বল ৯৫ রানের ইনিংস খেলে নিজ দলকে ১৩৬ রানের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও ওডিআইয়ে নিজেকে মেলে ধরতে সচেষ্ট হন। মাত্র ২৫ বলে ৫৯ রান তুলেছিলেন। এ দুটো ইনিংস খেলে সনথ জয়সুরিয়া ও থিসারা পেরেরা’র পর তৃতীয় শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় হিসেবে ওডিআইয়ে দুই শতাধিক স্ট্রাইক রেটে দুইটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
২০১৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নিষ্পত্তি টি২০আইয়ে মাত্র ১৬ বলে ৩৭ রান তুলে দলের সিরিজ বিজয়ে দারুণ ভূমিকা রাখেন।
শেষদিকের ওভারগুলোয় দূর্দান্ত ভূমিকা রাখায় বিভিন্ন টি২০ লীগে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ পান। শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে ইউভা নেক্সটের সদস্যরূপে প্রথম লীগের খেলায় অংশ নেন। ২০১৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে বরিশাল বুলস ও ২০১৬ সালে সাকিব-আল-হাসানসমৃদ্ধ ঢাকা ডায়নামাইটসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর, খুলনা টাইটান্সের সদস্য হন। এছাড়াও, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেছেন।
