৩০ মে, ১৯৮৩ তারিখে রাগামা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওডিআইয়ে শেষেরদিকে ওভারগুলোয় বোলিং করে চমৎকার সফলতা পেয়েছেন। এছাড়াও, বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণের পাশাপাশি বেশ ভালোমানের ইয়র্কার মারতেন। প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। ২০০৬ সাল থেকে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় শ্রীলঙ্কা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কান্দানাভিত্তিক ডি মাজেনোদ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। কলেজে অবস্থানকালেই ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তিন নম্বর অবস্থানে মাঠে নামতেন। ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত এ অবস্থানে খেলার পর বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। নতুন বল নিয়ে উপযুক্ত কোন খেলোয়াড় না থাকার কারণেই তাঁর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে বাসনাহিরা নর্থ ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কলম্বো কিংস ও কন্দুরাতা ম্যারুন্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে খেলেন। চমৎকার খেলার স্বীকৃতিস্বরূপ ইংল্যান্ডে ছয় মাসের বৃত্তিধারী হন। চার বছর বাদে বাংলাদেশ সফরে একদিনের আন্তর্জাতিক ও টেস্ট খেলার জন্যে শ্রীলঙ্কার সদস্য হন।
২০০৬ থেকে ২০১৫ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ২৫ টেস্ট, ২৪টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। খেলায় ২/২৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। আঘাতের কারণে তাঁর স্বাভাবিক খেলোয়াড়ী জীবন বাঁধাগ্রস্ত হয়।
পিঠের আঘাতের কারণে খেলার জগৎ থেকে ছয় মাস দূরে ছিলেন। আরোগ্যলাভের পর ২০০৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। বেশ আশাপ্রদ খেলা উপহার দেন ও পুণরায় জাতীয় দলে ফিরে আসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত হন ও দলের পেস আক্রমণকে সমৃদ্ধ করেন।
অতঃপর, ২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে অনিল কুম্বলে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ আগস্ট, ২০০৮ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ভারতের সেরা ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেহবাগকে উভয় ইনিংসে বিদেয় করে সবিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন। ৩/৮২ ও ২/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
২০১৫ সালে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ২০১৫ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩/৪৩ ও ৪/৯২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাঁর অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কারণে খেলায় স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।
খেলায় ছন্দহীনতায় ভোগা ও আঘাত তাঁর নিত্যসঙ্গী ছিল। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা দলে সর্বদাই আসা-যাবার পালায় ছিলেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কা দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু, ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সালে প্রশিক্ষণ চলাকালীন হাতে আঘাত পান ও শেষ পর্যন্ত তাঁকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল।
২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে জেসন হোল্ডারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। এ সিরিজে নয় উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ২২ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৭ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৩৪ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মিলিন্ডা সিরিবর্ধনা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের সুবাদে স্বাগতিকরা ৭২ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
অধুনা বিলুপ্ত প্রাদেশিক প্রতিযোগিতায় নিজের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছেন। সাউদার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে ইউভা প্রভিন্সের বিপক্ষে ৬/২৫ লাভ করেন। ২০০৪ সালে গল ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঐ খেলায় দশ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
