২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯২২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বিয়াক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম কিংবা স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
জনৈক কৃষকের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন। বালক অবস্থায় গরুর দুধ দোহন করতেন। এরফলে, কব্জিতে জোর পান ও বোলিংয়ে অনুকূল প্রভাব ফেলে। ১৭ বছর বয়সে মেলবোর্নে চলে যান। সেখানে রিচমন্ডের পক্ষে গ্রেড ক্রিকেট খেলতে থাকেন। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী ছিলেন।
১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯ বছর বয়সে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম খেলেন।
১৯৪৭ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে নিজ দেশে লালা অমরনাথের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৪৭ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/১৭ ও ১/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দলের একমাত্র ইনিংসে তাঁকে ব্যাট হাতে মাঠে নামতে না হলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ইনিংস ও ২২৬ রানে জয় পায় এবং পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ড সফরে ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন ‘অপরাজেয় দলের’ অন্যতম সদস্য ছিলেন। এ সফরে দ্রুততার সাথে উইকেট সংগ্রহে তৎপর হন। এছাড়াও, মিতব্যয়ী বোলিং করে রে লিন্ডওয়াল ও কিথ মিলারের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন।
১৯৪৯-৫০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরে তিনি পুরো পাঁচ খেলায় অংশ নিয়েও কোনটিতেই আউট হননি। তবে, তিনি মাত্র দুইবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে, ২০১৩-১৪ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে নাথান লায়ন কেবলমাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পুরো পাঁচ-টেস্টে অংশ নিয়ে তাঁর রেকর্ডের সাথে নিজেকে জড়ান।
২৪ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে ভিআই স্মিথের পঞ্চম উইকেট লাভ করে টেস্টে ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে জেই চিদামকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৩৬। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/২১ ও ৬/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৫ রানে জয়লাভ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৫১-৫২ মৌসুমে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২২ ডিসেম্বর, ১৯৫১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে আরজে ক্রিস্টিয়ানি’র চতুর্থ উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৬/৬২ ও ১/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়া, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেয়ে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ডগ রিংয়ের সাথে জুটি গড়ে বেশ সুনাম কুড়ান। শেষ উইকেট জুটিতে ৩৮ রান তুলে দলকে জয় এনে দেন। ডগ রিং ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন ও তিনি সাত রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন।
১৯৫২-৫৩ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাক চিদামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/১৫২ ও ১/১১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১২ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। তবে, স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে ২-২ ব্যবধানে সিরিজটি ড্র হয়।
১৯৫৩ সালে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমনার্থে মনোনীত হন। এ সফরে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১৯২ ব্যাটিং গড়ে রান পেয়েছিলেন। ১১ জুন, ১৯৫৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/২২ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৫৫ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ জুন, ১৯৫৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট কিংবা বোলিং করার সুযোগ পাননি। তবে, সফরকারীরা ইনিংস ও ৮২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ২৩.৯১ গড়ে ১৬০ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৩.৩৫ গড়ে ৫৫৪ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৪৯ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। সিডনিতে ‘অপরাজেয় দলের’ পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে নীল হার্ভে, বিল ব্রাউন ও স্যাম লক্সটনের সাথে যোগ দেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সর্বাপেক্ষা সরব ছিলেন ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ডিএ জনস্টন নামীয় সন্তানের জনক। জীবনের শেষ দিনগুলোয় গোল্ড কোস্ট ও নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তরাঞ্চলে বসবাস করতেন। ২৫ মে, ২০০৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের মোসম্যান এলাকার নার্সিং হোমে ৮৫ বছর ৮৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাকে শোকসংবাদ প্রকাশ করা হয়।
