|

ইমরান ফারহাত

২০ মে, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘রুমি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। সহজাত তরুণ বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে পাকিস্তান দলে আত্মপ্রকাশ ঘটান। এক পর্যায়ে পাকিস্তানের ইনিংস উদ্বোধনজনিত সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট হয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, লাহোর ও পাকিস্তান রিজার্ভস এবং বাংলাদেশী ক্রিকেটে বিমান বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইসিএল একাদশ, লাহোর বাদশাহ, লাহোর ঈগলস ও লাহোর লায়ন্সের পক্ষে খেলেছেন। জাতীয় পর্যায়ের অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের সদস্য হিসেবে সফলতা লাভের পরপরই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। সাঈদ আনোয়ারের অবস্থানকে নড়বড়ে করে দিয়েছিলেন ক্ষণকালের জন্যে। সময়ের চেয়ে রানের দিকেই তাঁর অধিক নজর ছিল। টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনেও সূচনাকালে বেশ ভালো খেলেন।

২০০১ থেকে ২০১৩ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বমোট ৪০ টেস্ট, ৫৮টি ওডিআই ও সাতটি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুমে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

এরপর, ৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে একই মাঠে ও একই দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ফয়সাল ইকবাল, মিসবাহ-উল-হক ও মোহাম্মদ সামি’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে। ২৩ ও ৬৩ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, অপর অভিষেকধারী মোহাম্মদ সামি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৯৯ রানে জয় পেয়ে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০০-০১ মৌসুমে মঈন খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৫ মার্চ, ২০০১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলার পঞ্চম দিন চাবিরতির পর উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ম্যাথু সিনক্লেয়ারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সফরকারীরা এগিয়ে যায়। তবে, এ সফরের পর দল থেকে বাদ পড়েন। তাসত্ত্বেও, খেলার সাথে বেশ লেগে থাকেন।

২০০৩-০৪ মৌসুমে উত্তরোত্তর সফলতার স্বাক্ষর রাখতে থাকেন। বৈচিত্র্যমূখী শট খেলার পাশাপাশি উন্নততর রক্ষণশৈলী অবলম্বন করে নিজ দেশে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে রানের ফুলঝুড়ি ছোটাতে থাকেন। তন্মধ্যে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে ইয়াসির হামিদের সাথে উপর্যুপরী রেকর্ডসংখ্যক চারটি শতরানের জুটি গড়েন। এছাড়াও, ঐ মৌসুমে টেস্ট ও ওডিআইয়ে নিজস্ব প্রথম শতরানের সন্ধান পান। পরবর্তীতে, লাহোর টেস্টে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে ১০১ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানের বিজয়ে প্রভূতঃ ভূমিকা রাখেন।

তবে, ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলার পর থেকে তাঁর খেলায় ছন্দপতন ভাব পরিলক্ষিত হয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজ দেশে ও বিদেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পাশাপাশি উদীয়মান বামহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সালমান বাটের উত্থানে তাঁকে দলের বাইরে নিয়ে যায়। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে একজনমাত্র উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নিয়ে দল সাজানো হলে দৃশ্যতঃ জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির অগোচরে চলে যান।

তাসত্ত্বেও, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টে তাঁকে দলে ফিরিয়ে আনা হয় ও অর্ধ-শতক হাঁকান। ফলশ্রুতিতে, শ্রীলঙ্কা গমনার্থে তাঁকে দলে নেয়া হয় ও গড়পড়তা সিরিজ উপভোগ করেন। তবে, পাকিস্তান দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ঘাটতি থাকায় গ্রীষ্মকালে ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে রাখা হয়। সেখানেও তিনি মিশ্র ফলাফল করেন। প্রথম দুই টেস্টে ব্যর্থ হবার পাশাপাশি আঙ্গুল ভেঙ্গে ফেলাসহ কয়েকটি ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি। চূড়ান্ত টেস্টে অবশেষে ৯১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

নিজ দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রানের সন্ধান পান। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। বিদেশের মাটিতে প্রথম শতক হাঁকানোর পর ২০০৯ সালে নেপিয়ার টেস্টে ধৈর্য্যশীল অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেন। এরপর থেকে টেস্ট দলে নিজের অবস্থান থিতু করেন। তবে, ওডিআইয়ে নিজেকে আর ফিরিয়ে আনতে পারেননি। ২০০৬ সালে ধারাবাহিকতাহীন খেলতে থাকলে দল থেকে বাদ পড়েন।

২০১২-১৩ মৌসুমে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ৩০ ও ৪৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, কাইল অ্যাবটের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

Similar Posts

  • |

    ডন ম্যাক্রে

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে…

  • |

    ডেনিস স্মিথ

    ৮ জানুয়ারি, ১৯১৩ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের টুউম্বা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি ও ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তন্মধ্যে, ছয়বার ওতাগো ও চারবার ক্যান্টারবারির…

  • |

    মাইকেল প্যাপস

    ২ জুলাই, ১৯৭৯ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। ২০০০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সাথে জুটি গড়ার জন্যে তাঁকে নিউজিল্যান্ড দলে রাখা হয়েছিল। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে…

  • |

    কায়সার আব্বাস

    ৭ মে, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের মুরিদকে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি, কার্যকর স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৮-১৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক, পাকিস্তান…

  • |

    জর্জ হার্ন, ১৮৫৬

    ৭ জুলাই, ১৮৫৬ তারিখে মিডলসেক্সের ইলিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, রাউন্ড আর্ম ভঙ্গীমায় বামহাতে মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘জিজি’ ডাকনামে পরিচিত ছিলেন। সুপরিচিত হার্ন পরিবারের অন্যতম সদস্য তিনি। ফ্রাঙ্ক ও অ্যালেক ভ্রাতৃদ্বয় রয়েছে এবং তিনি…

  • | |

    বিনু মানকড়

    ১২ এপ্রিল, ১৯১৭ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জামনগর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ভারত দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার ছিলেন। নিজের স্বর্ণালী সময়ে যে-কোন বিশ্ব একাদশে ঠাঁই পাবার অধিকারী ছিলেন। পেশাদারী পর্যায়ে…