৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ওড়িশায় জন্মগ্রহণ করলেও ১৩ বছর বয়সে হায়দ্রাবাদে চলে যান। এরফলে তাঁর পড়াশুনোর পথ আরও সুগম হয়। কোচ টি বিজয় পাল তাঁর প্রতিভার সন্ধান পান। অবশ্য এর অনেক পূর্বেই বেঙ্কটপতি রাজু ও হায়দ্রাবাদের কোচ কানোয়ালজিৎ সিং তাঁকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। কানোয়ালজিৎ সিং মন্তব্য করেন যে, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বোলার হিসেবে তাঁর শক্তিমত্তা লুপ ও বাউন্সারে নিহিত ছিল। প্রতিভাবান ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে নিয়ে সন্দেহ করার কোন কারণ ছিল না। কেবলমাত্র জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পরই এ প্রশ্নটি চলে আসে।
২০০৫ থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হায়দ্রাবাদ, বিহার, দক্ষিণাঞ্চল ও বাংলা এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে আশাতীত খেলা উপহার দেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৪-০৫ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফিতে রেলওয়েজের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে তিনি আরও পরিপক্ক হয়ে উঠেন ও ভারতে দলে খেলার বিষয়টি কেবলমাত্র সময়ের ব্যাপার ছিল।
মহারাষ্ট্রের বিপক্ষে ৬/৮৪ পান। এ খেলার মাধ্যমেই তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের বাঁক ঘুরে যায়। ছয় খেলা থেকে ২৯ উইকেট দখল করেন। ঐ মৌসুমে শেষে ১৯.৮৯ গড়ে উইকেট পান। শারীরিক দিক দিয়েও ভালো অবস্থানে থাকেন। অনুশীলনীতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করতেন। নভেম্বর, ২০০৭ সালে হাশিম আমলা, বোয়েতা ডিপেনার, অ্যাশওয়েল প্রিন্স, জাস্টিন অনটংয়ের ন্যায় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৮ উইকেট দখল করেন। ১১ মৌসুম হায়দ্রাবাদের পক্ষে খেলার পর বাংলা দলে চলে যান।
আইপিএলের ২০০৮ সালের আসরে ডেকান চার্জার্সের সাথে দারুণ খেলেন। ১৩ খেলায় অংশ নিয়ে ১১ উইকেট দখল করেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রিত হন।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্টে, ১৮টি ওডিআই ও ছয়টিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নেন। ২০০৮ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২৮ জুন, ২০০৮ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। খুব সহজেই তাঁর দল জয়লাভ করেন। খেলায় তিনি ২/৪৩ লাভ করেছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় কিছু সুন্দর খেলা উপহারের স্বীকৃতিস্বরূপ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬-সদস্যের ভারতীয় দলে যুক্ত হন। ঐ সফরে কোন টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তাঁর। তবে, অংশগ্রহকৃত কয়েকটি ওডিআইয়ে তুলনামূলকভাবে ভালো খেলেন।
২০০৯ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পান। ৬ জুন, ২০০৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। ৪/২১ নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। আইপিএলের ২০০৯ সালের আসরে ডেকান চার্জাসের পক্ষে খেলে ১৯.৩৩ গড়ে ১৮ উইকেট দখল করেন। এরফলে, ২০০৯ সালে নিজ দেশে সফরকারী শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার জন্যে তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ওডিআইয়ের তুলনায় টেস্ট ক্রিকেটেই তাঁর বোলিং অধিক মানানসই ছিল। দলে হিমশিম খাওয়া হরভজন সিংয়ের পরিবর্তে তাঁকে জাতীয় দলে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে কুমার সাঙ্গাকারা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুন, ২০০৯ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি চার উইকেট (২/৩৭ ও ২/৩৬) দখল করেছিলেন। তবে, এস শ্রীশান্তের দূর্দান্ত বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৪৪ রানের ব্যবধানে জয় পায় এবং তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর থেকে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় স্থায়ী আসন গড়েন। বিশেষতঃ নিজ দেশে অনুষ্ঠিত টেস্টে অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সাথে বেশ ভালোমানের জুটি হয়।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহকারী ও অমর প্রতিভা মুত্তিয়া মুরালিধরনের শেষ শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর ৮০০তম উইকেট লাভের সাথে নিজেকে যুক্ত করেন। মাহেলা জয়াবর্ধনে তাঁর ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ২০১০ সালে গলেতে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের উভয় ইনিংসেই তিনি তাঁর বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। ২০১১-১২ মৌসুমে ১০ টেস্টে অংশ নিয়ে নয়বার পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত দল ২-১ ব্যবধানে পরাভূত হলেও ২০ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।
২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ৪ নভেম্বর, ২০১০ তারিখে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ৪/১১৫। ৪/১০৭ ও ০/১ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, হরভজন সিংয়ের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
দূর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৩ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত পরের টেস্টেই রবীন্দ্র জাদেজা’র কাছে স্থানচ্যূত হতে হয় তাঁকে। এ পর্যায়ে দলের ব্যাটিং বিভাগকে শক্তিশালী করার দিকে ভারতের দল নির্বাচকমণ্ডলী মনোযোগ দেয়। তাসত্ত্বেও, সিরিজের তৃতীয় ও চতুর্থ টেস্টে তাঁকে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়। ৭ উইকেট নিয়ে উভয় খেলায় দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, সহযোগী বোলারদেরকে সহায়তা করাসহ মিতব্যয়ী বোলিং করেন। টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলককে ঘিরে ৪ আগস্ট, ২০১৩ তারিখে ওরিষ্যার মূখ্যমন্ত্রী নবীন পটনায়েক তাঁর স্মারক উপহার দেন।
২০১৩-১৪ মৌসুমে নিজ দেশে ড্যারেন স্যামি’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে বেশ ভালো খেলেন। কলকাতায় সিরিজের প্রথম টেস্টে বেশ আটোসাঁটো বোলিং করেন। এরপর, ১৪ নভেম্বর, ২০১৩ তারিখে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে দূর্দান্ত খেলেন। প্রথমবারের মতো তিনি দশ উইকেটের সন্ধান পান ও ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। শচীন তেন্ডুলকরের বিদায়ী খেলায় ৫/৪০ ও ৫/৪৯ পেয়েছিলেন। খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ১২৬ রানে জয়লাভ করে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আইপিএলের পঞ্চম আসরে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ $৮০,০০০ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাঁর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এরপর থেকে দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হন। বিদেশের পিচ অনেকাংশেই সিমার উপযোগী হবার কারণে তাঁকে বিদেশ সফরে রাখা হয়নি। ফলশ্রুতিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড গমনার্থে ভারত দল থেকে বাদ দেয়া হয়। ২০১৪ সালের আইপিএলের আসরে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে তাঁকে পুণরায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে রাখা হয়। এছাড়াও, ২০১১ সালে সারের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
