|

জন ক্যাম্পবেল

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝে-মধ্যে অফ-ব্রেক বোলিং করে থাকেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ট্যাকি হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ক্রিস গেইলকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। মাঠের সর্বত্র ব্যাট হাতে ছড়ি ঘুরাতে পছন্দ করেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেয়ার পূর্বে ২০১০ ও ২০১২ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিনিধিত্ব করেন। তন্মধ্যে, ২০১২ সালের প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী খেলায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখেন। এ পর্যায়ে প্রথম শতক হাঁকান।

দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা কুড়ান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনায় ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ২০১২-১৩ মৌসুমের ক্যারিবীয় টি২০ প্রতিযোগিতায় জ্যামাইকার পক্ষে প্রথম খেলেন। পরের বছর জ্যামাইকার প্রথম-শ্রেণী ও লিস্ট-এ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৪ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত জ্যামাইকা বনাম গায়ানার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক মৌসুমেই জ্যামাইকার পক্ষে নিজস্ব প্রথম-শ্রেণীর শতক হাঁকান। এরপর থেকে দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। কয়েক বছর পর বল হাতে নিয়েও সফলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। ফলশ্রুতিতে, জানুয়ারি, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১৯ সাল থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে সকল স্তরের ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক ঘটে। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪৪ ও ৩৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জেসন হোল্ডারের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৩৮১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর থেকে ব্যাট হাতে গড়পড়তা খেলা প্রদর্শন করেছেন। পরের মাসে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম ওডিআইয়ে অংশ নেন। মার্চ, ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে প্রথম খেলেন। তবে, ঐ খেলায় ১৪ বল থেকে মাত্র ১১ রান তুলতে পেরেছিলেন।

২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের উদ্বোধনী খেলায় আইরিশ বোলিং আক্রমণকে তুনোধুনো করে ছাড়েন। ১৭৯ রান তুলেছিলেন তিনি। একই খেলায় শাই হোপকে সাথে নিয়ে প্রথম উইকেটে ৩৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দলের অন্যতম সংরক্ষিত খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে, প্রতিযোগিতার কোন খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ ঘটেনি তাঁর। মারকুটে ব্যাটিং করলেও রান সংগ্রহে ধারাবাহিকতা না থাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়।

২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৪ মার্চ, ২০২২ তারিখে সেন্ট জর্জেসে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩৫ ও ৬* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, জশুয়া ডা সিলভা’র অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫ সালে নিজ দেশে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত দিবা-রাত্রির তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মিচেল স্টার্কের অসাধারণ ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৬ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪৫ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

Similar Posts

  • | |

    এহসানুল হক

    ১ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ২০০০-এর দশকে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘সিজান’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর বাংলাদেশী ক্রিকেটে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    অ্যান্থনি ম্যাকগ্রা

    ৬ অক্টোবর, ১৯৭৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের ব্রাডফোর্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ২০০০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘গ্রীপার’ ডাকনামে ভূষিত অ্যান্থনি ম্যাকগ্রা ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ইয়র্কশায়ার মার্টিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। জিসিএসই নবম গ্রেড বিটিইসি ন্যাট ডিপ লেজার স্টাডিজে…

  • |

    ইভান ব্যারো

    ১৬ জানুয়ারি, ১৯১১ তারিখে জ্যামাইকার বেলমন্ট পেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে খুব সম্ভবতঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বাপেক্ষা ভালোমানের উইকেট-রক্ষক ছিলেন। এ দেশ থেকে প্রথম উইকেট-রক্ষক হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে নিয়মিতভাবে…

  • | | |

    ডেনিস ব্রুকস

    ২৯ অক্টোবর, ১৯১৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের কিপাক্স এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। দলে মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৩ সালে কিশোর অবস্থায় নর্দাম্পটনশায়ারে যোগ দেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫৯ সময়কালে ২৫ বছর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া…

  • | |

    মোহাম্মদ নবি

    ১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে সোভিয়েত যুদ্ধ পরবর্তী আফগানিস্তানের লোগার প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিচিতি পান। ডানহাতে মাঝারিসারিতে দূর্দান্ত খেলেন। পাশাপাশি আলতো অফ-স্পিন বোলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও, দলের প্রথম ওডিআই ও প্রথম টেস্টের সাথে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি, আফগানিস্তান দলের অধিনায়কত্বের…

  • |

    হপার রিড

    ২৮ জানুয়ারি, ১৯১০ তারিখে এসেক্সের উডফোর্ড গ্রীন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে অংশ নিতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডে দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের মর্যাদা লাভ করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩…