১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে হারারেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।
দক্ষতা ও শক্ত মানসিকতা নিয়ে খেলার জগতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে নর্দার্নস ও মিড-ওয়েস্ট রাইনোসের পক্ষাবলম্বন করছেন। ২২ জুলাই, ২০০৪ তারিখে হারারেতে জিম্বাবুয়ীয় নির্বাচিত একাদশ বনাম ভারত ‘এ’ দলের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়েও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭১ রান সংগ্রহ করেছিলেন ও তিন শতাধিক উইকেট পেয়েছেন।
২০০৫ থেকে ২০১৮ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট, ৯৬টি ওডিআই ও ২৯টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ক্রিকেটের সর্বাপেক্ষা কঠিন স্তরের খেলার জন্যে পরীক্ষামূলকভাবে নেয়া হয়। তবে, ১৮ বছর বয়সে লেগ-স্পিন বোলিংয়ে স্বীয় দক্ষতা প্রদর্শনে সচেষ্ট হন ও প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। টেস্টে অংশগ্রহণের পূর্বে মাত্র ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। পল স্ট্র্যাং ও অ্যান্ডি হুইটলের দলের বাইরে থাকা এবং রে প্রাইসের অবসর গ্রহণের কারণেই মূলতঃ এ সুযোগ পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে স্বীয় প্রতিভা বিকাশে অগ্রসর হন। ২০০৪-০৫ মৌসুমে টাটেন্ডা তাইবু’র নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৬ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ক্রিস এমপফু ও বার্নি রজার্সের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ খেলায় তাঁর দল ২২৬ রানে পরাজিত হয় ও দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। তবে, দুই টেস্টে অংশ নিয়ে মাত্র ছয় উইকেট দখল করেন।
কিন্তু, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি আরও কঠোর প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। গ্রায়েম স্মিথ, এবি ডি ভিলিয়ার্স ও জ্যাক ক্যালিসের তোপে পড়েন। তাসত্ত্বেও ঐ তিনজনই তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে অংশ নেয়ার অল্প কিছুকাল পরই জিম্বাবুয়ের টেস্ট ক্রিকেটে স্বেচ্ছা নির্বাসন পর্ব শুরু হয়। জাতীয় দলের পক্ষে পরের খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে তাঁকে চার বছর প্রতীক্ষার প্রহর গুণতে হয়।
২৭ জানুয়ারি, ২০০৯ তারিখে মোম্বাসায় অনুষ্ঠিত কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক হয়। ঐ সিরিজে ৫ খেলা থেকে ১৫ উইকেট দখল করেন। ফলশ্রুতিতে, নিজেকে জিম্বাবুয়ের একদিনের আন্তর্জাতিকের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রয়াস পান। কেনিয়ার ফিরতি সফরেও ভাস্বর ছিলেন। ওডিআইয়ে প্রথম পাঁচ-উইকেট পান। বলে বৈচিত্র্যতা আনয়ণের পাশাপাশি মিতব্যয়ীতা ও নিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যায়। প্রথম বছরে ২২.১৫ গড়ে ৩২ উইকেট পান। তবে, একটি বাদে বাদ-বাকী সবগুলো উইকেটই বাংলাদেশ ও কেনিয়ার বিপক্ষে পেয়েছিলেন।
পল স্ট্র্যাংয়ের অবসর গ্রহণের পর লেগ-স্পিনারের শূন্যতা পূরণে তাঁকে চিত্রিত করা হয়। আগস্ট, ২০১১ সালে টেস্ট আঙ্গিনায় জিম্বাবুয়ে দলের প্রত্যাবর্তনকালে তিনি আঘাতের কবলে পড়েন। আরোগ্য লাভের পর ২০১২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে যুক্ত হন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে রঙ্গনা হেরাথের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ২০১৬ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৪/১৪২ ও ০/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০২* ও ৪৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ২২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ তারিখে জিকিবার্হায় এবি ডি ভিলিয়ার্সের নেতৃত্বাধীন স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ২/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। সিরিজের একমাত্র টেস্টে তাঁর দল ইনিংস ও ১২০ রানে পরাভূত হয়েছিল। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
