|

কেন হফ

২৪ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনির শহরতলী অবার্ন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ফুটবল ও ক্রিকেট – উভয় খেলায় দক্ষ ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে উভয় ধরনের ক্রীড়ায় অংশ নিলেও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে কেবলমাত্র ফুটবল খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটি ফুটবল খেলায় অংশ নেন। সবকটিই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৫৯-৬০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নিউ সাউথ ওয়েলস কোল্টসের পক্ষে খেলেছেন। শুরুতে অকল্যান্ড ও পরবর্তীতে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন।

১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজস্ব স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। প্লাঙ্কেট শীল্ডে ১২.১৩ গড়ে ৩৬ উইকেট নিয়ে অকল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীতে পরিণত হয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে, জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

১৯৫৯ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টেই দলের প্রতিপক্ষ ছিল সফরকারী ইংল্যান্ড দল। ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্রুস বোল্টন ও রজার হ্যারিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১* ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৯ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৪ মার্চ, ১৯৫৯ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৯৬। বল হাতে নিয়ে ৩/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

উভয় টেস্ট থেকে ৬ উইকেট দখল করেন। তবে, কোনটিতেই ব্যাটসম্যানকে কট আউটে বিদেয় করেননি। এরপর, ঐ বছরের শেষদিকে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফর করা থেকে বঞ্চিত হন। এছাড়াও, দূর্ভাগ্যবশতঃ ঐ বছরের শুরুরদিকে ইংল্যান্ড গমন করতে পারেননি।

১৯৫৯-৬০ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে ১৪৬ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেন। একই মৌসুমে ওতাগোর বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯১ রানের ইনিংস খেলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে চলে আসার পর ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ফুটবল দলে যুক্ত হন। অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে পাঁচটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের গ্ল্যাডস্টোনের নিজ গৃহে ৮০ বছর ৩৩১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • | |

    জো ট্রাভার্স

    ১০ জানুয়ারি, ১৮৭১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৮৯৫-৯৬ মৌসুম থেকে ১৯০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব…

  • | |

    অ্যান্ডি গ্যানটিউম

    ২২ জানুয়ারি, ১৯২১ তারিখে ত্রিনিদাদের বেলমন্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষণে অগ্রসর হয়েছিলেন। উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত তাঁর পিতা-মাতা। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪০-৪১ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    এরিক টিন্ডিল

    ১৮ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে নেলসনে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, আম্পায়ার, প্রশাসক ও দল নির্বাচক ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, বামহাতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের সাতজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে ক্রিকেট ও রাগবি – উভয় ধরনের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ করেছেন। ‘স্নোয়ি’ ডাকনামে পরিচিতি লাভ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তাঁর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন ব্যাহত হয়। খেলাধূলায় কি করেননি তিনি!…

  • |

    ডন টেলর

    ২ মার্চ, ১৯২৩ তারিখে অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান ছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। পরিচ্ছন্ন, আকর্ষণীয় ও স্ট্রোকের মারে পটু ছিলেন। ১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের…

  • |

    এরিক ডাল্টন

    ২ ডিসেম্বর, ১৯০৬ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • | |

    ফ্রাঙ্ক ইরিডেল

    ১৯ জুন, ১৮৬৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও সাংবাদিক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৮৯০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। জনৈক আয়রনমোঙ্গার ও আইরিশ বংশোদ্ভূত স্ত্রীর সন্তান ছিলেন। দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী। রক্ষণাত্মক ধাঁচ অবলম্বনসহ চমৎকার মারমুখী ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। সতেরো বছর বয়সে সফররত…