১৯ মার্চ, ১৯৫২ তারিখে ওতাগোর ডুনেডিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৫ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে কেন ওয়াডসওয়ার্থের ত্বকের ক্যান্সারে অকাল প্রয়াণের পর যোগ উত্তরসূরী হিসেবে নিউজিল্যান্ড দলে যুক্ত হন। এ পর্যায়ে অবশ্য প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ওতাগোর পক্ষে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতার ঝুঁলি নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন। এছাড়াও, লড়াকু ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তবে, প্রতিপক্ষীয় বোলিং আক্রমণে প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। তাসত্ত্বেও, দলে তিনি অমূল্য অবদান রাখতেন। বিশেষতঃ স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে কার্যকর ভূমিকা পালন করতেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ৩১টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। কেন ওয়াডসওয়ার্থের পিছনে থেকে নিউজিল্যান্ড দলে যুক্ত হন। খুব শীঘ্রই নিজেকে কার্যকর উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে জন পার্কারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৯ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। পিটার প্যাথেরিক ও রবার্ট অ্যান্ডারসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৮ ও ৪২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩০ অক্টোবর, ১৯৭৬ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। এ পর্যায়ে দল গভীর সঙ্কটে নিপতিত হয় ও তিনি দলের বিপর্যয় রোধে অগ্রসর হন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রান তুলে খেলাটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। তাঁর এ শতকটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ছিল ও টেস্টে যে-কোন নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটারের প্রথম শতক হাঁকানোর ঘটনা ছিল। তন্মধ্যে, সপ্তম উইকেটে রিচার্ড হ্যাডলি’র (৮৭) সাথে ১৮৬ রানের জুটি গড়ে নতুন নিউজিল্যান্ডীয় রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, চারটি ক্যাচ ও দুইটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, জাভেদ মিয়াঁদাদের মনোরম দ্বি-শতরানের বদৌলতে করাচীতে পাকিস্তান দল ৫৬৫ রান সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিক দল তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।
দূর্ভাগ্যবশতঃ ১৯৭৮ সালের ইংল্যান্ড সফরে তাঁকে দলের বাইরে রাখা হয়। জনৈক সাংবাদিকের দেখা সর্বাপেক্ষা বাজে উইকেট-রক্ষক হিসেবে আখ্যায়িত হলেও সন্দেহাতীতভাবে জক এডওয়ার্ডসের চেয়ে নিজেকে এগিয়ে রেখেছিলেন। পরের বছর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৭৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরে অংশ নেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল সেমি-ফাইনাল অবদি পৌঁছায়। ৯ জুন, ১৯৭৯ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
১৯৮২-৮৩ মৌসুমে নিজ দেশে সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ৪ মার্চ, ১৯৮৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ৮৯ রান সংগ্রহসহ পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তাঁর অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ২৫ রানে জয় পেয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, ওয়েলিংটন টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসে পাঁচ ক্যাচ ও খেলায় আট ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন।
কেন ওয়াডসওয়ার্থের আকস্মিক অন্তর্ধানের ফলে উইকেট-রক্ষণে নিউজিল্যান্ড দলে তেমন শূন্যতা অনুভূত হয়নি। মাঠে বেশ ভালোমানের ভূমিকা রাখলেও জক এডওয়ার্ডসের উত্থানে তাঁকে এক পর্যায়ে দলের বাইরে চলে যেতে হয়। তবে, জক এডওয়ার্ডস গ্লাভস হাতে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তৃতীয় আসরে তাঁকে পুণরায় জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।
১৯৮৩ সালের ইংল্যান্ড সফরে শেষ টেস্টগুলোয় অংশ নেন। ঐ বছর জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। নিক কুকের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
উদীয়মান ইয়ান স্মিথের উত্থানে পর্দার অন্তরালে চলে যান। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৯৯০-এর দশকের শুরুরদিকে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ড দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ১৪ জানুয়ারি, ২০১৪ তারিখে নিউজিল্যান্ড মহিলা দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে মনোনীত হন।
