| |

ক্লাইভ ফন রাইনেভেল্ড

১৯ মার্চ, ১৯২৮ তারিখে কেপ প্রভিন্সের সেন্ট জেমস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীর্ঘকায় গড়নের অধিকারী ছিলেন। কেপটাউনের ডিওসিসান কলেজে অধ্যয়ন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা সর্বক্রীড়াবিদ হিসেবে পরিগণিত হন। ব্যারিস্টার হিসেবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার রক্ষায় তৎপর ছিলেন।

১৯৪৬-৪৭ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৮ বছর বয়সে ১৯৪৬-৪৭ মৌসুমে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে রোডেশিয়ার বিপক্ষে প্রথম খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন। রোডস বৃত্তি নিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজে অধ্যয়নকল্পে ১৯৪৭ সালের শেষদিকে কেপটাউন ত্যাগ করে অক্সফোর্ডে চলে যান। নিজ দেশে ফিরে এসে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সাথে খেলতে থাকেন।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে ডাডলি নোর্সের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৭ জুন, ১৯৫১ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। জন ওয়েট, জ্যাকি ম্যাকগ্লিউ ও জিওফ চাবের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৩২ ও ২২ রান তুলে উভয় ইনিংসে অ্যালেক বেডসারের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় স্বাগতিকরা ৭১ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এ সফরে পোতানো পিচে বেশ হিমশিম খান। তাসত্ত্বেও ব্রামল লেনে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ১৫০ রান তুলেন। এছাড়াও, হেডিংলি টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৮৩ রানের ইনিংস খেলেন। এ সফরে লেন হাটনের একমাত্র টেস্ট উইকেট পান।

ঐ বছর কেপ বারে অন্তর্ভুক্ত হন। সবেমাত্র আইনচর্চায় নিয়োজিত থাকা অবস্থায় ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের জন্যে মনোনীত হন। তবে, জ্যাক চিদামের নেতৃত্বে থেকে সহঃঅধিনায়কের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি থেকে দূরে সড়ে আসেন।

দুই সিরিজের আট টেস্টে দলের নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৫১ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতনামা টেস্ট জয়ে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দলকে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। ১৯৫৪ সালে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন।

১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে জিওফ রাবোনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টনি ম্যাকগিবনের উইকেট লাভ করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ১/২৬। খেলায় তিনি ৩/৬৯ ও ১/৪২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৬৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৪ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে আরডব্লিউ ব্লেয়ারকে বিদেয় করে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৩/৬৯। বল হাতে নিয়ে ০/১৫ ও ৪/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ ও ১০* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিক দল ৫ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১ জানুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৩১২ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে নিজ দেশে ইয়ান ক্রেগের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ডারবান টেস্টে চার ভেবে নীল হার্ভে থেমে গেলে তাঁকে রান-আউট করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সিরিজের শেষদিকে পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদ্বয় – নীল অ্যাডককপিটার হেইনকে লক্ষ্য করে বাউন্সার মারা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।

২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ২৬ ও ৫ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট খেলেন।

এর এক বছর পর বর্ণবৈষম্যবাদ অবসানকল্পে প্রোগ্রেসিভ পার্টিতে যোগ দেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি একাধারে রাগবি খেলোয়াড়, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে রাগবি ফুটবলে অংশ নিয়েছেন।

১৯৬২ সালের পার্ল দাঙ্গায় থানা আক্রমণ, দোকান-পাট ও গৃহে অগ্নিকাণ্ড এবং দু্ই শ্বেতাঙ্গ নিহত হবার সাথে জড়িত পাঁচ কৃষ্ণাঙ্গের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর দক্ষিণ আফ্রিকার আইনসভার সদস্যরূপে মনোনীত হন।

২৯ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখে ৮৯ বছর ৩১৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts

  • |

    নাসির জামশেদ

    ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৯ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। বামহাতি ধ্রুপদীশৈলীর অধিকারী আগ্রাসী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অবস্থান সুদৃঢ়করণে দীর্ঘদিনের আশাবাদ পূরণে প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। সাঈদ আনোয়ার ও ম্যাথু হেইডেনকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। ব্যাটিংয়ের ধরন অনেকাংশেই তাঁদের…

  • | | |

    নীল হার্ভে

    ৮ অক্টোবর, ১৯২৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফিটজরয় এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১.৭২ মিটার উচ্চতার অধিকারী। পরিবারের ছয় পুত্র সন্তানের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন। জ্যেষ্ঠ তিন ভ্রাতা ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিতেন। তন্মধ্যে, একজন মার্ভ…

  • |

    কুশল মেন্ডিস

    ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে মোরাতুয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উইকেট-রক্ষক ও ব্যাটসম্যানের যৌথ গুণাবলী থাকলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে অংশ নিয়েছেন। অপূর্ব কৌশল অবলম্বনে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন। বয়সভিত্তিক খেলায় দ্রুত নিজের উত্থান ঘটান।…

  • |

    কাসিম উমর

    ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৭ তারিখে নাইরোবিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও মাঝারিসারিতে যে-কোন অবস্থানে খেলতে নামতেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী…

  • | |

    ব্রুস রিড

    ১৪ মার্চ, ১৯৬৩ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার অসবর্ন পার্ক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ৬ ফুট ৮ ইঞ্চির (২.০৩ মিটার) দীর্ঘ উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম থেকে ১৯৯৫-৯৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া…

  • |

    অমিত মিশ্র

    ২৪ নভেম্বর, ১৯৮২ তারিখে দিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০০-০১ মৌসুম থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে চণ্ডীগড়, হরিয়াণা ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ডেকান চার্জার্স,…