| |

জ্যাকি ডু প্রিজ

১৪ নভেম্বর, ১৯৪২ তারিখে রোডেশিয়ার সলসবারিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলিংয়ের দিকেই অধিক জোর দিতেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবে অসাধারণ ভূমিকা রাখতেন। ১৯৬০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রিন্স এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬১-৬২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। কারি কাপে প্রায়শঃই শক্তিধর রোডেশিয়া দলের তারকা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশ ও রোডেশিয়ার মধ্যকার তিনদিনের খেলায় ৩২ ওভার বোলিং করে ৬/৯৫ পান। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে তাঁর অন্তর্ভূক্তি ঘটে।

১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে নিজ দেশে ববি সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। সিরিজের শেষ দুই টেস্টে খেলেছিলেন। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে নিয়ে মোটেই সুবিধ করতে পারেনি। দলের একমাত্র ইনিংসে ডেভিড রেনেবার্গের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে বব কাউপার ও কিথ স্ট্যাকপোলের উইকেট দখল করে খেলাকে ড্রয়ে পরিণত করতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন। খেলায় তিনি ২/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এরফলে, স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে পোর্ট এলিজাবেথের জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দল সাত উইকেটে জয় পায় ও ঐ সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। দুই ইনিংসে দশ ওভার বোলিং করে একটি উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ১/০ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। প্রথম ইনিংসে আরও একবার বব কাউপারের বলে শূন্য রানের সন্ধান পান। সীমিত পর্যায়ে বোলিং করার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও দুই টেস্টে বোলিং করে ১৭ গড়ে তিন উইকেট দখল করেন। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

লেগ-ব্রেক বোলিং করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ৩১.০৭ গড়ে ২৯৬ উইকেট দখল করেছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৮/৯২ লাভ করেন। ব্যাট হাতে নিয়েও বেশ সফল ছিলেন। এক শতক সহযোগে ২৩.৭৬ গড়ে ৪০৬৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৮০ ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

পেশায় তামাক চাষী ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। জিম্বাবুয়ের জাতীয় দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ৮ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে হারারেতে ৭৭ বছর ১৪৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। ডানকান ফ্লেচার তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন।

Similar Posts

  • |

    দিলরুয়ান পেরেরা

    ২২ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে পানাদুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ধ্রুপদীশৈলীর অল-রাউন্ডার। বলে তেমন বাঁক খাওয়াতে না পারলেও বেশ বৈচিত্র্যতা আনয়ণসহ নিখুঁততা আনতে পারতেন। সহজাত ও স্বাবলীল ভঙ্গীমায় শ্রীলঙ্কার প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    চেতেশ্বর পুজারা

    ২৫ জানুয়ারি, ১৯৮৮ তারিখে গুজরাতের রাজকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অনেক পূর্ব থেকেই তাঁকে বিখ্যাত ব্যাটসম্যান রাহুল দ্রাবিড়ের যোগ্য উত্তরাধিকারীরূপে চিত্রিত করা হতো। দেশের অন্যতম সেরা উদীয়মান প্রতিভাবান হিসেবে বিবেচনায় আনা হয়।…

  • |

    রে রবিনসন

    ২৬ মার্চ, ১৯১৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের স্টকটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। স্টকটন দলে খেলতেন ও স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে তৎপর হন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে তৎকালীন সর্বোচ্চ ১৩৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে দ্বিতীয়ার্ধ্বে সিডনিভিত্তিক গর্ডন…

  • |

    ডন বিয়ার্ড

    ১৪ জানুয়ারি, ১৯২০ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিখুঁতমানসম্পন্ন ডানহাতি মিডিয়াম-পেস বোলার ছিলেন। কিছুটা দেরীতে বলকে সুইং করাতে সক্ষম ছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ মারকুটে ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। প্রথম-শ্রেণীর…

  • |

    ডন ম্যাক্রে

    ২৫ ডিসেম্বর, ১৯১২ তারিখে ক্যান্টারবারির ক্রাইস্টচার্চে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৪০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৪৬ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে…

  • |

    জ্যাক সিডল

    ১১ জানুয়ারি, ১৯০৩ তারিখে নাটালের বেরিয়া এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯২২-২৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। খাঁটি…