| |

লক্ষ্মণ শিবরামাকৃষ্ণান

৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ তারিখে মাদ্রাজে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘শিবা’ বা ‘এলএস’ নামেই অধিক পরিচিতি পান। গরমের দিনগুলোয় টেনিস বল নিয়ে অনুশীলন করে সময় ব্যয় করতেন। এরফলে, তাঁর অঙ্গুলী সঞ্চালনে সহায়ক ভূমিকা গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে লেগ-ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ঝড় তুলেন। খ্যাতনামা স্পিনার চতুষ্টয়ের দূর্বলতার পরপরই দারুণভাবে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়।

মাদ্রাজের আন্তঃবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় ১২ বছর বয়সী লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান ৭/২ লাভ করে প্রথমবারের মতো সকলের নজর আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। ১৫ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে রবি শাস্ত্রী’র নেতৃত্বে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা সফর করেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুম থেকে ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বরোদা ও তামিলনাড়ুর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৬ বছর বয়সে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে অংশ নিতে শুরু করেন। তাৎক্ষণিক সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৮১-৮২ মৌসুমে রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার-ফাইনালে দিল্লির বিপক্ষে তাঁর অভিষেক ঘটে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ ওভারে ৭/২৮ লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, দিলীপ ট্রফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পথ সুগম হয়। দক্ষিণাঞ্চলের সদস্যরূপে পশ্চিমাঞ্চলের মোকাবেলা করেন তিনি। এরপর, অনূর্ধ্ব-২২ দলের সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ড সফর করেন।

১৭ বছরের পূর্বেই ভারত দলের সদস্য হন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, দিলীপ দোশী ও রবি শাস্ত্রী’র ন্যায় খ্যাতনামা বোলারদের কারণে ঐ সিরিজের কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি তাঁর। তাসত্ত্বেও, জহির আব্বাস, জাভেদ মিয়াঁদাদওয়াসিম রাজা’র ন্যায় খেলোয়াড়দের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে ভারতে পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২৮ এপ্রিল, ১৯৮৩ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ১৭ বছর ১৮৮ দিন বয়স নিয়ে ভারত দলের সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটারের মর্যাদার অধিকারী হন। ব্যাট হাতে একবার মাঠে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৯৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের উত্থান ঘটে। বোম্বেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেন। ঐ সিরিজ শেষে তিনি ২৩ উইকেটের সন্ধান পান ও ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে মেলবোর্নে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১০ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশীপের চূড়ান্ত খেলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩/৩৫ লাভ করে দলের বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন। পরিসংখ্যানগতভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষেই তিনি অধিক সফল ছিলেন। শারজায় ইমরান খানআশরাফ আলী’র উইকেট লাভের পর দর্শকেরা ‘শিবা, শিবা’ বলে চিৎকার করতে থাকে। তবে, ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারায় শিবলাল যাদব ও রবি শাস্ত্রী’র পরই তৃতীয় অবস্থানে দলে খেলেছেন।

ব্যাটিংয়ে উত্তরণের প্রাণান্তঃকর চেষ্টা চালান। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী তামিলনাড়ু দলের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেমন ভূমিকা রাখতে পারেননি। ১৯৮৭ সালের পর আর তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোন স্তরে খেলানো হয়নি।

১৯৮৫-৮৬ মৌসুম শেষে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে কপিল দেবের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ১৯৮৬ তারিখে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। তবে, সিডনির ব্যাটসম্যান উপযোগী পিচ থেকে উইকেট শূন্য অবস্থায় তাঁকে মাঠ ত্যাগ করতে হয়। ০/৭৯ ও ০/৩৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কৃষ শ্রীকান্তের অসাধারণ ব্যাটিশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ১৯৮৭ সালের রিলায়েন্স কাপ প্রতিযোগিতা চলাকালীন মাঝামাঝি সময়ে ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে ওয়াংখেড়েতে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঐ খেলা থেকে তিনি মাত্র এক উইকেটের সন্ধান পান।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্য কর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মে, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের ক্রিকেট কমিটিতে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি মনোনীত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। হরিণী শিবরামাকৃষ্ণন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

Similar Posts

  • | |

    এইডেন মার্করাম

    ৪ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন ও দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। দুই বছর বয়সে ক্রিকেট সরঞ্জাম উপহার পান। ক্রীড়াপ্রেমী পরিবারে তাঁর জন্ম। বাড়ীতে সর্বদাই ক্রিকেট বল নিয়ে খেলতেন। এরপর থেকে ক্রিকেট…

  • | |

    গর্ডন লেগাট

    ২৭ মে, ১৯২৬ তারিখে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৪৪-৪৫ মৌসুম থেকে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ১৯৫২-৫৩…

  • |

    হারম্যান গ্রিফিথ

    ১ ডিসেম্বর, ১৮৯৩ তারিখে ত্রিনিদাদের অ্যারিমায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২১-২২ মৌসুম থেকে ১৯৪০-৪১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। শীর্ষসারির পেসার হিসেবে…

  • | |

    স্কচ টেলর

    ২৫ জুলাই, ১৯২৫ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এরপর, উইওয়াটারস্রান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিবিষয়ক ডিগ্রীধারী হন। ইনিংস উদ্বোধনে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিতেন। ১৯৪৯-৫০ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম…

  • |

    ক্রিস ডাকওয়ার্থ

    ২২ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে রোডেশিয়ার কেউইকেউই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৫০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে রোডেশিয়া ও নাটালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ বছর…

  • | |

    মেরিক প্রিঙ্গল

    ২২ জুন, ১৯৬৬ তারিখে কেপ প্রভিন্সের অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ডেল কলেজে অধ্যয়ন শেষে কিংসউড কলেজে পড়াশুনো করেছেন। দ্রুতগতিতে বোলিং না করলেও বলে কৌণিকভাবে সিম আনয়ণে সক্ষম ছিলেন।…