৩ আগস্ট, ১৯৬০ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
অসম্ভব দম নিয়ে নিখুঁত নিশানা বরাবর বোলিংয়ের কারণে পরিচিতি লাভ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোলিং করতে পারতেন ও খেঁই হারিয়ে ফেলতেন না। ১৯৭৯-৮০ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ভারতের পক্ষে অংশ নেন। ১৯৩৬ সালের ইংল্যান্ড সফরে ভারতের অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা দেশের সবচেয়ে বাজে ক্রিকেটার বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজকুমারের পর প্রায় অর্ধ-শতাব্দী পেরিয়ে উত্তরপ্রদেশের পরবর্তী টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে খেলেন।
১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সময়কালে সব মিলিয়ে ভারতের পক্ষে পাঁচ টেস্ট ও এগারোটি ওডিআইয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে নিজ দেশে ডেভিড গাওয়ারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৮৫ তারিখে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেকে দারুণ খেলেন। দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করেছেন। ৬০ ওভার থেকে ৩/১১৫ লাভ করেন। সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল – দলীয় সঙ্গী লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণান ঐ খেলায় উইকেট শূন্য অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও সফরকারীরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
ভারত দলে অফ-স্পিনার হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে শুরুতে শিবলাল যাদব ও পরবর্তীতে আরশাদ আইয়ুবের সাথে তাঁকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে শ্রীলঙ্কা সফরে যাবার সুযোগ পান। এ সফরের ২৫ আগস্ট, ১৯৮৫ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
এরপর, ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে পাকিস্তানের মুখোমুখি হন। জয়পুরে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে শিবলাল যাদবের সাথে একত্রে বোলিং করার সুযোগ পান। অন্যতম সফল বোলার হিসেবে চার উইকেটের সন্ধান পেলেও তাঁর চেয়ে এগিয়ে থাকেন। আহমেদাবাদে পরের ইনিংসে তিনি এক উইকেট পেলেও শিবলাল যাদব ৪ উইকেট পেয়েছিলেন। এরফলে, তিন বছরের জন্যে দলের বাইরে ছিলেন।
দুই বছরে প্রথম চার টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুমে পুণরায় তাঁকে ভারত দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ঐ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ২৩ নভেম্বর, ১৯৯০ তারিখে চণ্ডীগড়ে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ১/২৬ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ গড়েন। শূন্য রানে বিদেয় নিলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, বেঙ্কটপতি রাজু’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিক দল ইনিংস ও ৮ রানে জয় পায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
পাঁচ টেস্ট খেললেও কোনটিতেই দলে প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রাপ্ত ১০ উইকেট দখলকালে তাঁকে প্রত্যেক উইকেটের জন্যে ১৩০ বল করতে হয়েছিল। তবে, বেশ মিতব্যয়ী ছিলেন। ওভারপ্রতি তিনি মাত্র ১.৯১ রান খরচ করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তাঁর রেকর্ড বেশ ভালোমানের ছিল। প্রথম-শ্রেণী ক্রিকেটে চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ১০৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২২.৪১ গড়ে রান পেয়েছিলেন। এছাড়াও, নিজ নামের পার্শ্বে দুইটি শতরানের ইনিংস লিখিয়েছেন। বল হাতে ৩৫৩ উইকেট দখল করেছেন।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ভারতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরূপে মধ্যাঞ্চলের সাথে যুক্ত থাকেন। কিছু খেলোয়াড়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার দল নির্বাচকের দায়িত্ব থেকে তাঁকে বাদ দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁকে উপযুক্ত প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থতার কারণে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
