১৯ জুন, ১৯৯৫ তারিখে কেপ প্রভিন্সের কেপটাউনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হয়ে থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
রন্ডেবশ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। এখান থেকেই ম্যাট্রিকুলেশন ডিগ্রী লাভ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেন ও ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। অল্পের জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলার সুযোগ পাননি। জ্যাক ক্যালিসকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। জোহানেসবার্গ জায়ান্টস দলের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, নভেম্বর, ২০১৭ সাল থেকে গ্লোবাল টি২০ লীগ শুরু হবার কথা থাকলেও আর তা অনুষ্ঠিত হয়নি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাটিং করতে সক্ষম।
২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেপ কোবরাজের পক্ষে খেলেছেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ তারিখে পিটারমারিৎজবার্গে অনুষ্ঠিত কোয়াজুলু নাটাল-ইনল্যান্ড বনাম ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের মধ্যেকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।
অক্টোবর, ২০১৪ সালে ১৯ বছর ১১৩ দিন বয়স নিয়ে চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দ্বি-শতক হাঁকানোর গৌরব অর্জন করেন। ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের সদস্যরূপে নামিবিয়ার বিপক্ষে এ সাফল্যের অধিকারী হন। এরপর থেকে দ্রুত তাঁর উত্থান ঘটতে থাকেন ও এক পর্যায়ে কেপ কোবরাসের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। জ্যাক ক্যালিসের কাছ থেকে ভারসাম্য ও ধৈর্য্যশীলতা রপ্ত করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্রিজ আঁকড়ে থাকার দিকে মনোনিবেশ ঘটান। এ বিষয়টি অন্যান্য তরুণ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে স্বাতন্ত্র্যতার পরিচয় নিয়ে আসে। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে কয়েক মৌসুম দারুণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে তাঁকে জাতীয় দলের খেলার জন্যে মনোনীত করা হয়।
২০১৯ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়কালে শততম টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। তবে, প্রত্যাশামাফিক খেলা উপহার দিতে পারেননি। ৪১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কুইন্টন ডি ককের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০৭ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরবর্তী টেস্ট সিরিজ খেলা থেকে বঞ্চিত হন। আগস্ট, ২০১৯ সালে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে পুণরায় তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দলে যুক্ত করা হয়। ২০১৯-২০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে ভারত সফরে যান। ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখে রাঁচিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৬২ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। রোহিত শর্মা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২০২ রানে পরাজিত হলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ম্যাট হেনরি’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭৬ রানে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২৩ মার্চ, ২০২২ তারিখে দেহে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় ও তিনি স্বেচ্ছায় খেলায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার কথা ঘোষণা করেন।
২০২৩-২৪ মৌসুমে নীল ব্র্যান্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২০ ও ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, উইলিয়াম ও’রোর্কের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা খেলায় ৭ উইকেটে জয়লাভসহ ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
