|

উইলি কুয়েইফ

১৭ মার্চ, ১৮৭২ তারিখে সাসেক্সের নিউহ্যাভেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গ্রিকুয়াল্যান্ড ওয়েস্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৪ থেকে ১৯২৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ওয়ারউইকশায়ারের ব্যাটিং পরিচালনা শক্তিতে পরিণত হন। বেশ ছোটখাটো গড়নের খাঁটিমানের ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটান।

এক মৌসুম সাসেক্সে খেলার পর ওয়ারউইকশায়ারে তিন দশকের অধিক সময় বর্ণাঢ্যময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। পঁচিশ মৌসুমে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

১৮৯৯ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৮৯৯ সালে নিজ দেশে জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৮৯৯ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। সেইলর ইয়ংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২০ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯০১-০২ মৌসুমে আর্চি ম্যাকলারিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯০২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে মন্টি নোবেলের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ৩২৩ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঘরোয়া আসরের ব্যাটিং সফলতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মেলে ধরতে পারেননি। এছাড়াও, কার্যকর লেগ-স্পিনার ছিলেন। তবে, তাঁর বোলিং ভঙ্গীমা নজরদারীতে পড়ে। পাশাপাশি কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন। ১৯২৮ সালে ৫৬ বছর বয়সে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে শেষ ইনিংসে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেন। ৩৫ বছর পূর্বে একই কাউন্টিতে অবস্থান করে অভিষেকে একই ইনিংস খেলেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট ব্যাট প্রস্তুতকারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। স্বীয় সন্তান বার্নার্ড কুয়েইফ তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করে। ৫ জুন, ১৯২২ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের পক্ষে পিতা-পুত্র একত্রে জুটি গড়েন ও প্রতিপক্ষীয় ডার্বিশায়ারের পিতা-পুত্র বিলি বেস্টউইক ও রবার্ট বেস্টউইকের বোলিং মোকাবেলা করেছিলেন। ঐ খেলায় ওয়ারউইকশায়ার দল ১০ উইকেটে জয়লাভ করেছিল।

১৩ অক্টোবর, ১৯৫১ তারিখে ওয়ারউইকশায়ারের এজবাস্টনে ৭৯ বছর ২১০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

Similar Posts