| | |

ফিরোজ পালিয়া

৫ সেপ্টেম্বর, ১৯১০ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বেতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দর্শনীয় বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে খুব কম সময়ই বড় অঙ্কের সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়াও, বামহাতে স্পিন বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে সিকে নায়ড়ু, অমর সিং, নাজির আলীনাওমল জিওমলের সাথে তিনিও গুণগত মানসম্পন্ন অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

বোম্বের অভিজাত পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা ব্যাঙ্গালোরে কাঠ ও আসবাবপত্রের ব্যবসায়ের সাথে জড়িত ছিলেন। লম্বার দিক দিয়ে খুব কমই তাঁর পাশে মানানসই ছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়েই অধিক সফল ছিলেন। তাঁর কব্জীর মোচরের সাথে অনেকাংশেই কেএস রণজিৎসিংজীভিভিএস লক্ষ্মণের ব্যাটিংয়ে দেখা যায়। নিজের সেরা দিনগুলোয় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

১৯২৮-২৯ মৌসুম থেকে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা, মাদ্রাজ, বোম্বে, মহীশূর, পার্সি ও ইউনাইটেড প্রভিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পঁচিশ বছরের অধিক সময় জুড়ে ১০০টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। ১৮ বছর বয়সে বোম্বে কোয়াড্রাঙ্গুলারে খেলার সুযোগ পান। এ পর্যায়ে পার্সিস দলের পক্ষে অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। ঐ খেলায় চার উইকেট লাভের পাশাপাশি ৬৯ রানের মনোমুগ্ধকর ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, তারকাসমৃদ্ধ হিন্দু দলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে পার্সিস দল জয়লাভ করে। চূড়ান্ত খেলায়ও দারুণ খেলেন। ২৪৮/৮ থাকা অবস্থায় তিনি ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ৩১৬ রানে নিয়ে যান। এছাড়াও, খেলায় তিনি তিন উইকেট পান। ইউরোপিয়ান্স দল ১৩৪ রানে পরাজিত হয় ও পার্সিস দল কোয়াড্রাঙ্গুলারের শিরোপা জয় করে। সিলন সফরে ভিজ্জি তাঁর দলের সদস্যরূপে জ্যাক হবসহার্বার্ট সাটক্লিফের সাথে তাঁকেও অন্তর্ভুক্ত করেন।

যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় নিজেকে শানিত করেন। ফলশ্রুতিতে, ১৯৩২ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে তাঁকে ভারত দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। অমর সিংয়ের পর ২১ বছর বয়সী ফিরোজ পালিয়া দলের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার ছিলেন। ১৯৩৬ সালেও দলের সদস্য ছিলেন। কিন্তু, কোন টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি।

রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় ইউনাইটেড প্রভিন্স দলের অধিনায়কত্ব করেন। কিন্তু, মহারাষ্ট্রের কাছে তাঁর দল ১০ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল। ২১৬ রান তুলে দলের সংগ্রহকে ৩৫৫ রানে নিয়ে যান, কিন্তু অন্য কোন ব্যাটসম্যান ২০-এর অধিক রান তুলতে পারেননি।

১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে মাত্র দুইটি টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। টেস্টগুলোয় সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে প্রতিভাবান ছিলেন। তবে, দুইয়ের অধিক টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। ভারতের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩২ সালে সি.কে. নায়ড়ু’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে লর্ডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। মোটেই সুবিধে করতে পারেননি। ০/২ ও ০/১১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১ ও ১* রান তুলতে সক্ষম হন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৫৮ রানে জয়লাভ করেছিল।

১৯৩৬ সালে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ১১ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্ট ছিল।

কিন্তু, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এর বিপরীত চিত্র লক্ষ্যণীয়। ৩২.৪০ গড়ে ৮ শতক সহযোগে ৪৫৩৬ রান ও ২৪.০৯ গড়ে ২০৮ উইকেট দখল করে স্বীয় প্রতিভার বিচ্ছুরণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তন্মধ্যে, সাতবার পাঁচ-উইকেট লাভ করেছেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ও বেতার ধারাভাষ্যকারের দায়িত্বে ছিলেন। ৭১তম জন্মদিন উদযাপনের চারদিন পর ৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮১ তারিখে কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

Similar Posts

  • |

    জর্জ ডকরেল

    ২২ জুলাই, ১৯৯২ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। স্লো লেফট-আর্ম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরে অংশ নিয়েছেন। কিশোর অবস্থা থেকে উত্তরণের পর দূর্লভ প্রতিভাবান বামহাতি স্পিনার হিসেবে চিহ্নিত হন। ১৭ বছর বয়সে ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ৩১…

  • | |

    আজহার খান

    ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫ তারিখে পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও রেফারি। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। দক্ষ অফ-স্পিন অল-রাউন্ডার ছিলেন আজহার খান। তবে, দীর্ঘ ২২ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে দূর্ভাগ্যজনকভাবে একটিমাত্র টেস্টে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে…

  • | | | |

    রিচি রিচার্ডসন

    ১২ জানুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে অ্যান্টিগুয়ার ফাইভ আইল্যান্ডস ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। আক্রমণাত্মক ধাঁচে ব্যাটিং করতেন। ব্যাটিংকালে হেলমেটের পরিবর্তে গাঢ় তাম্রবর্ণের সৌর টুপি পরিধান করে খেলতে নামতেন। অটোস কম্প্রিহেনসিভ…

  • | |

    সরফরাজ আহমেদ

    ২২ মে, ১৯৮৭ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল স্তরের অংশ নিয়েছেন ও পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। সহজাত প্রকৃতির উইকেট-রক্ষক ছিলেন না। কেবলমাত্র আক্রমণাত্মক স্ট্রোকপ্লের কারণে উত্তরোত্তর নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। ২০০৬ সালের আইসিসি…

  • | |

    জাস্টিন ল্যাঙ্গার

    ২১ নভেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালনসহ থার্ড স্লিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘জেএল’ কিংবা ‘অ্যাল্ফি’ ডাকনামে ভূষিত জাস্টিন ল্যাঙ্গার ১.৭৮ মিটার উচ্চতার অধিকারী। ১৯৮৯-৯০…

  • | |

    টিম কার্টিস

    ১৫ জানুয়ারি, ১৯৬০ তারিখে কেন্টের চিজলহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে অগ্রসর হতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। রয়্যাল গ্রামার স্কুল ওরচেস্টারে অধ্যয়নের পর ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি…