১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯০৩ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দর্শনীয় ডানহাতি ব্যাটসম্যান ও মিডিয়াম পেস বোলার ছিলেন। সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিয়ে চমৎকার ব্যাটসম্যানরূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উইকেটের চতুঃপার্শ্বে শক্তিধর স্ট্রোক খেলতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
যদি সিকে নায়ড়ু না খেলতেন তাহলে তিনি তাঁর সময়কালের সেরা ভারতীয় ব্যাটসম্যানের মর্যাদা সন্দেহাতীতভাবে লাভ করতেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে কমপক্ষে একটি টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দিতে পারতেন। তাসত্ত্বেও, ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে দুইটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে ভারতীয় একাদশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম দুই খেলায় সিকে নায়ড়ু নেতৃত্বে ছিলেন ও বাদ-বাকী খেলাগুলোয় অংশ নেননি। ফলশ্রুতিতে, দলকে পরিচালনা করার দায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়। ০-২ ব্যবধানে ভারত দল পিছিয়ে পড়লে পরবর্তীতে সিরিজ ড্র করতে সমর্থ হন। তন্মধ্যে, তৃতীয় খেলায় ৭৭ ও ৯২ রান তুলে উভয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।
দর্শনীয় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করতেন ও মাঠের চতুর্দিকে স্ট্রোক মারতেন। ১৯২২-২৩ মৌসুমে থেকে ১৯৪৭-৪৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মধ্য ভারত, পাতিয়ালার মহারাজা একাদশ, মুসলিম, সিন্ধু ও সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের অধিকাংশ খেলাই মুসলিম দলের সদস্যরূপে খেলেন ও বোম্বে চতুর্দলীয় প্রতিযোগিতায় প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। রঞ্জী ট্রফিতে সাউদার্ন পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় ২২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তাসত্ত্বেও বাংলা দলের বিপক্ষে তাঁর দল পরাজয়বরণ করেছিল।
এছাড়াও, ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটি অকেশনালসের সদস্যরূপে ২৬৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তৎকালীন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েন। ১৯৩৯-৪০ মৌসুমে তাঁর এ রেকর্ড ভেঙ্গে যায় ও বিজয় হাজারে ৩১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নেন। সব মিলিয়ে ১২১টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ৩৮.৭৭ গড়ে ৭২১২ রান তুলেছেন।
১৯৩২ থেকে ১৯৩৬ সময়কালে ভারতের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত সাত টেস্টই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে খেলেন। তবে, উচ্চ স্তরের খেলায় তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ১৭ গড়ে ২৩৭ রান তুলেন ও কোন অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩৯ গড়ে রান পেয়েছেন।
ভারতের সর্বপ্রথম টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৩২ সালে সি.কে. নায়ড়ু’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৫ জুন, ১৯৩২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। দলের অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে ৩১ ও ৩৯ রান তুলতে সক্ষম হন। ঐ টেস্টে স্বাগতিকরা ১৫৮ রানে জয়লাভ করেছিল।
তিনি তাঁর প্রথম ইংল্যান্ড সফরে বেশ সফল ছিলেন। সব মিলিয়ে ১৭২৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩২ গড়ে ১২২৯ রান তুলে সিকে নায়ড়ু ও নাউমল জিউমলের পর তৃতীয় স্থানে অবস্থান করেন। এ সফরে ছয়টি শতক নিজ নামের পার্শ্বে লিপিবদ্ধ করেন। ১৯৩৩ সালে নিজ দেশে একই দলের মুখোমুখি হন।
১৯৩৬ সালে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ড সফর করেন। এ সফরে আঙ্গুলের আঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন ও এক মাস মাঠের বাইরে অবস্থান করতে বাধ্য হন। তাসত্ত্বেও, ফোকস্টোনে ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে ১৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ব্যর্থতায় পরিপূর্ণ ঐ সফরে সফরকারী দলের পক্ষে এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল। এছাড়াও, এ সফরেই ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪২ রান করেছিলেন।
২৭ জুন, ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৪ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে গাবি অ্যালেনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৫ আগস্ট, ১৯৩৬ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২ ও ১ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। স্বাগতিক দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করে ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রচলিত রয়েছে যে, সমসাময়িক সিকে নায়ড়ু’র সাথে তাঁর সম্পর্কে তেমন প্রীতিদায়ক ছিল না। নায়ড়ু’র পরই দলে তাঁর অবস্থান ছিল। তাঁর সাফল্যে পুরোপুরি নিজের সেরা খেলা উপহার দিতে পারতেন না। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর পাকিস্তানে অভিবাসিত হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। কনিষ্ঠ ভ্রাতা নাজির আলী (বিকল্প: নাসির আলী) ভারত ও পুত্র খালিদ ওয়াজির ১৯৫৪ সালে পাকিস্তানের পক্ষে দুই টেস্ট খেলেছেন। তিন বছর পর ১৭ জুন, ১৯৫০ তারিখে মাত্র ৪৬ বছর ২৭৫ দিন বয়সে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসাকালীন জীবন অবসান ঘটে।
