১৬ মার্চ, ১৯০৬ তারিখে ওয়েলসের কার্ডিফে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ১৯৩০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
অ্যানি মেরি হেনেসি টার্নবুল ও ফিলিপ বার্নার্ড টার্নবুল দম্পতির ছয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। পিতা ওয়েলসের আন্তর্জাতিক হকি খেলোয়াড় ছিলেন ও ১৯০৮ সালের অলিম্পিকে ব্রোঞ্জপদক লাভ করেছিলেন। ডাউনসাইড স্কুলে অধ্যয়নের পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো করেন।
ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ওয়েলস ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। আনন্দময় ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে সচেষ্ট ছিলেন। সহজাত প্রকৃতির ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন-তখন রান সংগ্রহে তৎপর ছিলেন। সচরাচর অন-সাইডে খেলতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাছাড়াও, সকল ধরনের স্ট্রোক খেলতে পারতেন। এর কিছু নিজস্ব সৃষ্ট ছিল। এছাড়াও, শর্ট-লেগ অঞ্চলে অবস্থান করে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ১৯২৪ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অবস্থায় ১৮ বছর বয়সে ১৯২৪ সালে গ্ল্যামারগনের পক্ষে প্রথম খেলেন। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে খেলার প্রথম ইনিংসে ৪০ রান তুলে দলের বিজয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯২৬ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লু লাভ করেন। কার্ডিফ আর্মস পার্কে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতক হাঁকান। ১৯২৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনায়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ও বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে সহস্রাধিক রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৩৭ সালে সোয়ানসীতে গ্ল্যামারগনের সদস্যরূপে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সেরা ২৩৩ রান তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে দলটির পক্ষে ৩১৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২২ শতক সহযোগে ৩০.১২ গড়ে ১৪৪৩১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৩০ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুমে হ্যারল্ড জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১০ জানুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, এটিই নিউজিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম খেলা ছিল। হ্যারল্ড জিলিগান, মরিস অলম, স্ট্যান নিকোলস, স্ট্যান ওয়ার্থিংটন ও টিচ কর্নফোর্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, গ্ল্যামারগনে জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটি টেস্টেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। এ সফরে ওয়েস্টার্ন প্রভিন্সের বিপক্ষে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৮ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৬১ রান সংগ্রহ করেন। সফরকারীরা ২৮ রানে পরাজিত হলে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৬ সালে নিজ দেশে বিজিয়ানাগ্রামের মহারাজা’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৭ জুন ১৯৩৬ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩৭* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ঐ টেস্টে ইংল্যান্ড দল ৯ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবি খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর সুনাম ছিল। কার্ডিফের পক্ষে হাফ-ব্যাক অবস্থানে খেলতেন। ১৯৩২ সালে ওয়েলসের পক্ষে দুইটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ১৯২৯ সালে ওয়েলসের পক্ষে হকি খেলায় অংশ নিয়েছেন। কার্ডিফ ক্লাবে বর্ণাঢ্যময় ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছেন। পাশাপাশি কেমব্রিজ থেকে হকিতে ব্লুধারী হয়েছিলেন। তদুপরি, সাউথ ওয়েলসের স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। কার্ডিফ স্কোয়াশ ক্লাবের অর্থসংস্থান ও অবকাঠামো গঠনে অবদান রাখেন। স্বীয় আত্মজীবনী রচনা করেছেন। এমসিসি দলের সদস্যরূপে বিদেশ সফরকে ঘিরে এম. জে. সি. অলমের সাথে যৌথভাবে দুই খণ্ডে – ‘দ্য বুক অব দ্য টু মরিসেস’ (১৯৩০) ও ‘দ্য টু মরিসেস এগেইন’ (১৯৩১) প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ড দল নির্বাচকের দায়িত্বে ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ১৯৩৯ সালে এলিজাবেথ ওল্গা রলি টার্নবুল নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির তিন কন্যা সন্তান ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নরম্যান্ডি অভিযানে ওয়েলস গার্ডসের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট, ১৯৪৪ তারিখে ফ্রান্সের মন্টচ্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় মাত্র ৩৮ বছর ১৪২ দিন বয়সে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
