|

রঞ্জী হরডার্ন

১০ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮৩ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের নর্থ সিডনি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে প্রভূতঃ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ১৯১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিতি পান। দেশের প্রথম বড় ধরনের বোলার হিসেবে বলকে লেগ থেকে অফের দিকে নিয়ে যেতে পারতেন। ১৯০৫-০৬ মৌসুম থেকে ১৯১২-১৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ফিলাডেলফিয়ান্সের পক্ষে খেলেছেন। ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশই দলটিতে খেলেন। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানে চলে আসেন। গুগলি বোলিংয়ে দক্ষ হয়ে উঠেন। ফিলাডেলফিয়ান্সের সদস্যরূপে ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড ও জ্যামাইকা গমন করেন।

১৯১১ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি শারওয়েলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি আট উইকেট পেয়েছিলেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৬৬ পান। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৩/৩৯ লাভ করেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ৭ ও ২৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৫৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ৩ মার্চ, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ২৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৭৩ ও ২/১১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯১১-১২ মৌসুমে নিজ দেশে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ঐ সিরিজে ২৪.৩৭ গড়ে ৩২ উইকেট দখল করেছিলেন। পাঁচবার জে. বি. হবসের উইকেট পান। ১৫ ডিসেম্বর, ১৯১১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলতে নামেন। ঐ টেস্টে ১৩৫ রান খরচায় ১২ উইকেট পেয়েছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৫/৮৫ ও ৭/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, খেলায় তিনি ১৭* ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৪৬ রানে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টেও তিনি ১৬১ রান খরচায় ১০ উইকেট দখল করেন। ঐ সিরিজে ব্যাটসম্যান হিসেবেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ২১.৬২ গড়ে রান পেয়েছিলেন। খেলায় তিনি ৫/৯৫ ও ৫/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজিত হলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

নিজের সময়কালে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে উপস্থাপিত করেছিলেন। সচরাচর আট নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে মাঠে নামতেন। টেস্টগুলো থেকে ২৩.০৯ গড়ে ২৫৪ রান ও ২৩.৩৬ গড়ে ৪৬ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৬.৩৬ গড়ে ২২৮ উইকেট পেয়েছিলেন।

ক্রিকেটের বাইরে দন্তঃবিশারদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন মিশর ও ফিলিস্তিনে চার বছর কাজ করেন। দেশে ফিরে আসার পর স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে জড়িয়ে পড়েন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর বিবাহ করেন। হার্বার্ট ও হেনরি নামীয় সন্তানদ্বয়ের জনক। ১৭ জুন, ১৯৩৮ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ডার্লিংহার্স্ট এলাকায় ৫৫ বছর ১২৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। সিডনির নর্দার্ন সাবার্বস ক্রিমেটোরিয়ামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

Similar Posts

  • |

    মোহাম্মদ খলিল

    ১১ নভেম্বর, ১৯৮২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ২০০০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে ২০১৪-১৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে লাহোর, লাহোর ঈগলস, লাহোর লায়ন্স, লাহোর হোয়াইটস, পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন…

  • | |

    সঞ্জয় মাঞ্জরেকর

    ১২ জুলাই, ১৯৬৫ তারিখে মহীশূরের মাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, উইকেট-রক্ষণের সাথেও নিজেকে জড়িয়েছিলেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। অসীম সময়ের জন্যে অপূর্ব ব্যাটিং কৌশল অবলম্বন করতেন। এমনকি রান সংগ্রহে স্থবিরতা গ্রহণকালেও তাঁর ব্যাটিং দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম…

  • |

    মোহাম্মদ সামি

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮১ তারিখে সিন্ধু প্রদেশের করাচীতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নতুন প্রজন্মের অন্যতম পাকিস্তানী ফাস্ট বোলার। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন ব্যতিরেকেই টেস্ট দলে ঠাঁই পান। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন…

  • |

    খোরশেদ মেহেরামজী

    ৯ আগস্ট, ১৯১১ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংয়ে অগ্রসর হতেন। ১৯৩০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম থেকে ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে, পার্সি ও ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।…

  • |

    জাভেদ ওমর

    ২৫ নভেম্বর, ১৯৭৬ তারিখে ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ‘গুল্লা’ ডাকনামে পরিচিত জাভেদ ওমর বেলিম কখনোবা ‘ওমর বেলিম’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | |

    ইমরান খান

    ৫ অক্টোবর, ১৯৫২ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, প্রশাসক, তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মূখ্যতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শনে পারদর্শী ছিলেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ণাঢ্যময় চরিত্রের অধিকারী। পাকিস্তানী ক্রিকেটে প্রধান পটপরিবর্তনকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পাকিস্তানের ক্রিকেটকে আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হৃদপিণ্ডতুল্য ভূমিকা…