| |

কবির খান

১২ এপ্রিল, ১৯৭৪ তারিখে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

শক্ত মজবুত গড়নের অধিকারী বামহাতি সিমার। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৩-০৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেড, হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ও পেশাওয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৪ থেকে ২০০০ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ১০টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান। এ সফরেই তাঁর টেস্ট ও ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটে। ২৬ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে ক্যান্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পাননি। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে একবার বোলিং করার সুযোগ পেলে ১/৩৯ লাভ করেন। তবে, ওয়াকার ইউনুসের অসামান্য অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫২ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। তন্মধ্যে, একটি টেস্ট পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়েছিল।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের একমাত্র টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ২/৬০ ও ১/৫৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৪ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অ্যালান ডোনাল্ডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। ফ্যানি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৪ রানে জয় পায়।

এরপর থেকে পরবর্তী ছয় মৌসুমের অধিক সময় নিয়ে দশটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নেয়ার সুযোগ লাভ করেছিলেন। খেলায় তেমন কোন অবদান রাখতে না পারায় দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা পাননি। তবে, ওভারপ্রতি রান খরচের হার চারের নিচে ছিল। কিন্তু, মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি।

টেস্ট ক্রিকেটেও একই ধারা বহমান রাখেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ দুই টেস্টে ২২৩ রান খরচ করে পাঁচ উইকেট দখল করেছিলেন। এরপর, এক মৌসুমের মধ্যে চার খেলায় অংশ নেয়ার পর বাদ পড়েন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে সেলিম মালিকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১/৪৫ ও ৩/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ৮* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। এক পর্যায়ে আফগানিস্তান দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে এ দায়িত্ব পালন করা থেকে অব্যাহতি নেন। ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তারিখে এইচবিএলের কোচ হিসেবে নিযুক্তি পান।

Similar Posts

  • |

    ব্রায়ান ইল

    ২৯ অক্টোবর, ১৯৪১ তারিখে মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৫৯-৬০ মৌসুম থেকে ১৯৭১-৭২ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব…

  • | | | |

    রমিজ রাজা

    ১৪ আগস্ট, ১৯৬২ তারিখে পাঞ্জাবের লায়লপুরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, প্রশাসক ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে লেগ ব্রেক বোলিংয়ে অগ্রসর হতেন। পাকিস্তান দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে তাঁর জন্ম। দর্শনীয় ডানহাতি ধ্রুপদী ব্যাটিংশৈলীর অধিকারী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন। দূর্দান্ত স্ট্রোকপ্লের কারণে সমর্থকদের কাছে বিপুল সমাদৃত ছিলেন।…

  • | |

    অ্যাশলে উডকক

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এ পর্যায়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত সদস্যের…

  • | |

    পার্থসারথী শর্মা

    ৫ জানুয়ারি, ১৯৪৮ তারিখে রাজস্থানের আলওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ১৯৭০-এর দশকে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে সম্যক পরিচিত লাভ করেন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর…

  • | | | |

    শেন ওয়ার্ন

    ১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ফার্নট্রি গালি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার, কোচ ও ধারাভাষ্যকার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে লেগ-ব্রেক কিংবা লেগ-স্পিন বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ওডিআইয়ে অজি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ক্রিকেট জগতে পদার্পণকালীন পুরো ক্রিকেট বিশ্ব পেস ও…

  • |

    রিচার্ড স্নেল

    ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং এবং ইংরেজ কাউন্টি…