|

চামু চিভাভা

৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে মাসভিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন।

‘চাম’ ডাকনামে পরিচিতি পান। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রালস, ম্যাশোনাল্যান্ড, ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মাসভিঙ্গো, সাউদার্ন লায়ন্স, সাউদার্ন রক্স ও সাউদার্নসের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ মার্চ, ২০০৪ তারিখে হারারেতে মাসভিঙ্গো বনাম মনিকাল্যান্ডের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

সম্মুখসারির বোলার না হলেও মাঝে-মধ্যেই মিডিয়াম পেস সহযোগে ভূমিকা রাখেন। অল-রাউন্ডার হিসেবে ব্যাটিংয়ের দিকেই অধিক মনোনিবেশ ঘটান। ফিল্ডিংয়ে দক্ষতা থাকলেও বোলিংয়ে ধারাবাহিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন না। ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্রিকেটেই অধিক সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। মূলতঃ শীর্ষসারিতেই ব্যাটিংয়ে নামেন।

শহরতলীতে অবস্থান করেন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ানোয় পারদর্শী। সোজা বরাবর খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ও শর্ট বলেও সাহসী চিত্তে মোকাবেলা করেন। কিন্তু, স্পিনের বিপক্ষে বেশ দূর্বলতা রয়েছে। দূর্দান্ত ফিল্ডিং করেন ও সচরাচর কভার অঞ্চলে অবস্থান করেন।

২০০৫ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০০৫ সালে জিম্বাবুয়ের জাতীয় দল থেকে খেলোয়াড়দের গণঅসন্তোষের ফলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উপস্থাপন করার সুযোগ পান। ১৮ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচনালগ্নটি মোটেই সুবিধের হয়নি। ৩১ আগস্ট, ২০০৫ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তবে, অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। অমর্যাদাকর শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, আফ্রো এশিয়ান কাপের অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের খেলায়ও হিমশিম খান।

তবে, দ্বিতীয় পর্যায়ে সুযোগ লাভ করলে দৃশ্যতঃ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। ২০০৬ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গমন করেন। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম খেলাগুলোয় উপর্যুপরী দুইটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর থেকে দলে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। বড় ধরনের রান না পেলেও জিম্বাবুয়ের ওডিআই দলের স্বীয় স্থান পাকাপোক্ত করে নেন। ওডিআইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৩ রান তুলে দলের জয়ের ভিত গড়ে ব্যাটসম্যান হিসেবে তার উপযোগিতা তুলে ধরতে সচেষ্ট হন।

কিছু সময়ের জন্যে বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত সাউদার্ন রক্স দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯-১০ মৌসুমের ঘরোয়া টি২০ প্রতিযোগিতায় দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। খেলায় ছন্দ ফিরে পেলে ঐ বছরের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য হন। টি২০ ক্রিকেটে পরপর দুইটি অর্ধ-শতরান করেন। তন্মধ্যে, দ্বিতীয় শতরানটি পর্বতসম ১৯৪ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় প্রায় নিয়ে গিয়েছিল।

২০১২-১৩ মৌসুমে ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। তবে, দল পরিবর্তনের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় দলের পক্ষে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের সদস্য ছিলেন। কানাডার বিপক্ষে ১৫৫ রান সংগ্রহসহ ঘরোয়া পর্যায়ে অর্ধ-শতকগুলোর কারণে বিশ্বকাপে খেলার জন্যে বিবেচিত হন। ২৯ মে, ২০১৫ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৯ রানে বিদেয় নেন। এ পর্যায়ে ১৫৩ বল মোকাবেলায় ১১টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।

২০১৬ সালে নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৮ জুলাই, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মাইকেল চিনুয়া ও প্রিন্স মাসভুরে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৫ ও ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে মার্টিন গাপটিলের উইকেট লাভ করেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১১৭ রানে জয় তুলে নেয়।

২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে গুদাকেশ মোতি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯ ও ৩১ রান তুলেন।

ভগ্নী জুলিয়া জিম্বাবুয়ের মহিলা ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃক প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন।

Similar Posts

  • | |

    মাইক হুইটনি

    ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সারে হিলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুম থেকে ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস এবং…

  • |

    হর্ষিত রাণা

    ২২ ডিসেম্বর, ২০০১ তারিখে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করে থাকেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। ভারতের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০২২-২৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে দিল্লি ও উত্তরাঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯…

  • |

    লাহিরু গামাগে

    ৫ এপ্রিল, ১৯৮৮ তারিখে মারাদানা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২০১০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। ‘নয়া’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। নতুন বল নিয়ে পেস ও সুইং সহযোগে বেশ চমৎকার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কার অনুপযোগী পিচেও বলকে সুইং করানোয় সক্ষমতা…

  • |

    ব্রুস মিচেল

    ৮ জানুয়ারি, ১৯০৯ তারিখে ট্রান্সভালের ফেরেইরা ডিপ গোল্ড মাইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। এছাড়াও, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে দক্ষ ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। লম্বাটে গড়নের অধিকারী ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। প্রায়শঃই অনড়, অটল, অবিচল…

  • |

    ট্রাভিস হেড

    ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে উইকেট-রক্ষকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি (১.৭৯ মিটার) উচ্চতাসম্পন্ন। চমৎকার নেতৃত্বের গুণাবলীর অধিকারী। পরিচ্ছন্ন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।…

  • |

    আদনান আকমল

    ১৩ মার্চ, ১৯৮৫ তারিখে পাঞ্জাবের লাহোরে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ২০১০-এর দশকে পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। তিন ভাইয়ের অন্যতম হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে উইকেট-রক্ষণে নিয়োজিত ছিলেন। ভ্রাতৃত্রয়ের মধ্যে উইকেট-রক্ষক হিসেবে তিনিই অধিক সফল ছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে…